নজরবন্দি ব্যুরো: অযোধ্যার রাম মন্দির (Ram Mandir) নির্মাণ ঘিরে এবার সামনে এল নতুন বিতর্ক। ভাইরাল হওয়া একটি ৯ পাতার চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, মন্দির নির্মাণ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্রের (Nripendra Misra) ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী। এমনকি ট্রাস্টে ১৫ জন সদস্য থাকলেও অধিকাংশ সিদ্ধান্ত কার্যত একাই নেওয়া হত বলেও ওই চিঠিতে অভিযোগ রয়েছে। তবে চিঠিটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি এবং নৃপেন্দ্র মিশ্র সরাসরি এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে ওই ৯ পাতার চিঠি। সেটি রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের (Champat Rai) লেখা বলে দাবি করা হচ্ছে। চিঠিতে মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা, নির্মাণকারী সংস্থা নির্বাচন এবং ৭০ একর মন্দির চত্বরের বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে নৃপেন্দ্র মিশ্রের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ভাইরাল চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, নৃপেন্দ্র মিশ্রের পরামর্শেই মন্দির নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল লারসেন অ্যান্ড টুব্রোকে (Larsen & Toubro)। মন্দিরের নকশা ও নির্মাণ সংক্রান্ত অন্যান্য কাজের জন্য নয়ডার ডিজাইন অ্যাসোসিয়েট নামে একটি সংস্থা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
শুধু সংস্থা নির্বাচনের বিষয়েই নয়, নির্মাণ কমিটিতে কয়েকজনকে নৃপেন্দ্র মিশ্র নিজের পছন্দ অনুযায়ী যুক্ত করেছিলেন বলেও চিঠিতে দাবি রয়েছে। নির্মাণ সংক্রান্ত বৈঠকগুলিতে তাঁর সিদ্ধান্তই কার্যত চূড়ান্ত হত—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে।
তবে এই পুরো দাবির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নৃপেন্দ্র মিশ্র অভিযোগগুলিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, এমন কোনও চিঠি তিনি দেখেননি। তাঁর বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরনের কোনও অভিযোগও করা হয়নি।
নৃপেন্দ্র মিশ্রের কথায়, চিঠিটি যদি সত্যিই ভাইরাল হয়ে থাকে, তাহলে সেটিকে তিনি সংবাদমাধ্যমের ‘বানানো গল্প’ বলেই মনে করছেন। তাঁর দাবি, সংবাদমাধ্যমের একাংশ অযথা বিতর্ক তৈরি করছে।
বিতর্কের মধ্যে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। নৃপেন্দ্র মিশ্র ২০২০ সালে রাম মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি আগে কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ আমলা ছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। মন্দির নির্মাণের কারিগরি ও প্রশাসনিক অগ্রগতিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলেই বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে চম্পত রাইয়ের অবস্থান নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে। রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে তাঁর পদত্যাগের পর মন্দির পরিচালনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জুন মাসে অনুদান ও সামগ্রী নিয়ে কথিত অনিয়মের তদন্তের আবহে তাঁর এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্রের পদত্যাগের কথা ট্রাস্ট নিজেই জানিয়েছিল। পরে ট্রাস্ট তাঁদের পদত্যাগ গ্রহণ করে।
তবে এখানে ‘৩ হাজার কোটি টাকা চুরি’কে সরাসরি প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রাম মন্দিরের অনুদান ও সম্পত্তি নিয়ে কথিত অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে জমা দেওয়া SIT-এর চূড়ান্ত রিপোর্টে চম্পত রাই ও অনিল মিশ্রকে এই মামলায় ক্লিনচিট দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ফলে রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে নতুন করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে একটি কথিত ৯ পাতার চিঠি এবং তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন। একদিকে চিঠিতে নৃপেন্দ্র মিশ্রের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে তিনি নিজেই সেটিকে ‘বানানো গল্প’ বলছেন। চিঠিটির মূল লেখক ও বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলিকে নিছক দাবি হিসেবেই দেখা জরুরি। তবে অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণ ও পরিচালনার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন অভিযোগ সামনে আসায় বিতর্ক যে সহজে থামছে না, তা স্পষ্ট।



