সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য, বহরমপুরে প্রাক্তন তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার

বহরমপুরে পুলিশ হেফাজতে থাকা পাপাই ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৮৬ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার। শক্তিপুরেও পৃথক অভিযানে গ্রেফতার দু’জন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যজুড়ে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের মধ্যেই মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে বড়সড় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। পুলিশ হেফাজতে থাকা প্রাক্তন যুব তৃণমূল নেতা পাপাই ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি ম্যাগাজিন এবং ১৮৬ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একইসঙ্গে শক্তিপুর থানার একটি পৃথক মামলায় আরও দু’জনকে গ্রেফতার করে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, ছ’টি ম্যাগাজিন ও ৪০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে এই তথ্য জানান মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার সচিন মক্কার।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাপাই ঘোষ একসময় বহরমপুর শহরের যুব তৃণমূল সভাপতি ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে ছিলেন না। ২০১৭ সালের একটি খুনের চেষ্টার মামলায় তাঁর নাম জড়িয়েছিল। সম্প্রতি সেই মামলায় বহরমপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

এরপর তাঁর কাছে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র থাকতে পারে বলে সন্দেহ করে পুলিশ। সেই সূত্রে ১৪ অগস্ট তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। আদালত তাঁকে ন’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শুক্রবার রাতে বহরমপুর থানার পুলিশ পাপাই ঘোষের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি ম্যাগাজিন এবং ১৮৬টি কার্তুজ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে দু’টি ৯ এমএম পিস্তল, তিনটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল এবং দু’টি ওয়ান-শট পাইপ গান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অন্যদিকে শক্তিপুর থানার একটি পৃথক মামলাতেও জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় পুলিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জব্বর মণ্ডল ও আলমগীর শেখ নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শক্তিপুরের ওই অভিযানে অস্ত্রের পাশাপাশি ছ’টি ম্যাগাজিন এবং ৪০ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার হয়েছে। দুটি পৃথক ঘটনায় এত বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধারের পর অস্ত্রের উৎস এবং সেগুলি কোথায় ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত কি না, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলি কোনও অপরাধে আগে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা জানতে ফরেন্সিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য তদন্তও হতে পারে।

পাপাই ঘোষকে ঘিরে এর আগেও বহরমপুরে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে তাঁর এক ঘনিষ্ঠের বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাতেও তাঁর নাম উঠে এসেছিল। পরে জুনে বহরমপুরে তাঁর নামে পরিচিত একটি বাগানবাড়ি বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে প্রশাসনের অভিযানে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।

এখন নতুন করে তাঁর বাড়ি থেকে সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল কার্তুজ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। একইসঙ্গে শক্তিপুরের পৃথক অস্ত্র মামলার সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মুর্শিদাবাদে বেআইনি অস্ত্রের উৎস এবং চক্রের সন্ধানে তদন্ত কতদূর এগোয়, এখন সেদিকেই নজর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন