যুব প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বাড়াতে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিল বিজেপি (BJP)। জেন জ়ি-র মনোভাব, প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলি বুঝতে দেশজুড়ে জনসংযোগ কর্মসূচি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin)-এর নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে বিশেষ টিম। সেই দলে রয়েছেন স্মৃতি ইরানি (Smriti Irani), বিনোদ তাওড়ে (Vinod Tawde), গুজরাতের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংভি (Harsh Sanghavi) এবং ছত্তীসগঢ়ের মন্ত্রী ওপি চৌধরী (OP Choudhary)-র মতো নেতারা।
দিল্লির যন্তর মন্তরের ছাত্রবিক্ষোভের পর তরুণদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টি বিজেপির অন্দরে গুরুত্ব পেয়েছে। শনিবার নিতিন নবীনের নেতৃত্বে নতুন জাতীয় পদাধিকারীদের প্রথম বৈঠকে জেন জ়ি-র জন্য আলাদা আউটরিচ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত হয়। তরুণদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা, তাঁদের মতামত শোনা এবং তাঁদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশা বোঝাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
নতুন টিমে বিজেপির সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগে দক্ষ নেতৃত্বকে একসঙ্গে রাখা হয়েছে। নিতিন নবীন এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেবেন। স্মৃতি ইরানি ও বিনোদ তাওড়ের পাশাপাশি হর্ষ সাংভি এবং ওপি চৌধরীকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে টিমে আরও কয়েকজন নেতাকে যুক্ত করা হতে পারে বলে খবর।
বিজেপির এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য শুধু প্রচার নয়, তরুণ ভোটারদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ তৈরি করা। জেন জ়ি-র কাছে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, প্রযুক্তি, ভবিষ্যৎ সুযোগ এবং সামাজিক পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রজন্মের ভাবনা সরাসরি শুনে দলের কর্মসূচি ও রাজনৈতিক বার্তা আরও কার্যকর করার চেষ্টা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগে সমাজমাধ্যমকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তরুণদের কাছে পৌঁছতে প্রচলিত জনসভা বা সাংগঠনিক কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম, রেডিট, স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মে জেন জ়ি-র সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ‘সেবা সংকল্প’ কর্মসূচির পরিকল্পনাও করেছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। সেই হিসেবে চলতি বছরের অক্টোবরে তাঁর প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে।
দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে অক্টোবর পর্যন্ত এই কর্মসূচির মাধ্যমে মোদী সরকারের বিভিন্ন কাজ ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প তুলে ধরা হবে। নারী, যুব, কৃষক ও দরিদ্র—এই চারটি ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সম্মান জানানো, যুবদের নিয়ে উদ্ভাবনী কর্মসূচি এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মতো কর্মসূচিও এর অংশ হতে পারে।
বিজেপির এই নতুন পরিকল্পনার রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়। তরুণ ভোটারদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের মধ্যেই জেন জ়ি-কে কেন্দ্র করে নতুন জনসংযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিরোধীরা ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও মোদী সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার বাড়াচ্ছে। ফলে তরুণ প্রজন্মের কাছে দলের অবস্থান তুলে ধরা এবং তাঁদের ক্ষোভ-অভিযোগ সরাসরি শোনা এখন বিজেপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে বিজেপির বক্তব্যে ‘মোদীর ভাবমূর্তি ফেরানো’কে আনুষ্ঠানিক লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়নি। বরং দলীয় কর্মসূচির ঘোষিত উদ্দেশ্য তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং তাঁদের মতামত ও প্রত্যাশা বোঝা। তাই এই প্রচার আগামী দিনে ভোটের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে জেন জ়ি-র সঙ্গে বিজেপির এই নতুন সংযোগ কতটা কার্যকর হয় তার উপর।
সব মিলিয়ে, নতুন জাতীয় টিম ঘোষণার পরেই বিজেপির প্রথম বড় সাংগঠনিক উদ্যোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে জেন জ়ি। একদিকে তরুণদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদীর ২৫ বছরের প্রশাসনিক পথচলাকে সামনে রেখে দেশজুড়ে সেবা ও জনসংযোগ কর্মসূচি—দুই পরিকল্পনাতেই আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশলের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।



