বাংলাদেশে অনলাইনে অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে তদন্তে নতুন মোড়। ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ সুমাইয়া সাইদকে গ্রেপ্তারের পর জেরায় তাঁর বাবার বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। অভিযোগ, মেয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার পরও তিনি বাধা দেননি। বরং কনটেন্ট তৈরির পর তা অনলাইনে বিক্রি এবং আর্থিক লেনদেনের কাজে সহযোগিতা করতেন। এই ঘটনায় সুমাইয়া, তাঁর বাবা এবং সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককে জেরা করে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগ।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় সাইবার নজরদারির সময় এই চক্রের সন্ধান মেলে বলে তদন্তকারীদের দাবি। গত ১০ অগস্ট সুমাইয়ার ইনস্টাগ্রাম (Instagram) ও টেলিগ্রাম (Telegram) অ্যাকাউন্টে একাধিক আপত্তিকর কনটেন্টের সন্ধান পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই কনটেন্ট বিক্রির জন্য সমাজমাধ্যমে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছিল।
গোয়েন্দাদের দাবি, নগদ টাকা এবং অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে কনটেন্ট বিক্রি করা হত। তদন্তে এমন একটি বিজ্ঞাপনেরও সন্ধান মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে, যেখানে ৩,৫০০ টাকার বিনিময়ে ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’-এর কথা বলা হয়েছিল।
এই তথ্য পাওয়ার পর গোপন সূত্রের ভিত্তিতে ঢাকার ভাটারা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই সুমাইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি। একই অভিযানে তাঁর বাবা এবং সহযোগী হিসেবে পরিচিত খাজা সাকলাইন ফারুককেও আটক করা হয়।
তদন্তের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিকটি উঠে এসেছে সুমাইয়ার বাবাকে ঘিরে। অভিযোগ, মেয়ের অনলাইন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন। শুধু জানতেনই না, কনটেন্ট তৈরি হওয়ার পরে সেগুলি বিক্রি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও দেখভাল করতেন বলে তদন্তকারীদের কাছে তথ্য এসেছে।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা বলে খবর। সেই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে কনটেন্টের বিজ্ঞাপন, যোগাযোগ এবং অর্থ লেনদেন করা হত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কোন কোন ব্যক্তি বা অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল, সেই তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
গোয়েন্দাদের নজরে এখন মূলত এই অনলাইন নেটওয়ার্ক। শুধু সুমাইয়া, তাঁর বাবা ও ফারুকের মধ্যেই পুরো কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ ছিল, নাকি এর পিছনে আরও কোনও ব্যক্তি বা সংগঠিত চক্র রয়েছে—তা জানার চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে জানা যাচ্ছে।
এই ধরনের অনলাইন কনটেন্টের প্রচার ও বিক্রি বাংলাদেশের আইনে অপরাধ কি না এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ঠিক কোন ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে স্পষ্ট হবে। আপাতত ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ডিজিটাল তথ্য যাচাইয়ের উপরেই জোর দিচ্ছেন গোয়েন্দারা।
সুমাইয়া সাইদকে ঘিরে তদন্তে বাবার নাম উঠে আসার ঘটনায় বাংলাদেশে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলিকে চূড়ান্ত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গোয়েন্দাদের হাতে থাকা ডিজিটাল প্রমাণ, আর্থিক লেনদেন এবং ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই এই কথিত চক্রের প্রকৃত পরিধি স্পষ্ট হবে।



