স্ত্রীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ, বাঁচাতে গিয়ে মাকেও কোপ! রক্তাক্ত অস্ত্র নিয়ে থানায় যুবক

ধূপগুড়ির ভেমটিয়ায় পারিবারিক অশান্তির মধ্যে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ। বউমাকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত অভিযুক্তের মা, পরে রক্তাক্ত অস্ত্র নিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ যুবকের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পারিবারিক অশান্তির ভয়াবহ পরিণতি ধূপগুড়িতে। স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। বউমাকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন অভিযুক্তের মাও। এরপর রক্তমাখা অস্ত্র হাতে নিয়ে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন ওই যুবক। রবিবার সকালে ধূপগুড়ি মহকুমার ভেমটিয়া এলাকায় এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

মৃতার নাম রুকসানা বেগম। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর তিনেক আগে বারঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ভেমটিয়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গির আলমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বিয়ের প্রথম দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পরে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।

অভিযোগ, জাহাঙ্গির নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। বিভিন্ন ধরনের নেশা করার কারণে সংসারে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। স্ত্রী প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর করা হত বলেও অভিযোগ। এমনকি প্রতিবেশীরা বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে তাঁদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

রবিবার সকালে ফের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। অভিযোগ, কথা কাটাকাটির মধ্যেই আচমকা ধারালো অস্ত্র নিয়ে স্ত্রী রুকসানার উপর হামলা চালান জাহাঙ্গির। একাধিকবার তাঁকে কোপানো হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রুকসানা।

চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জাহাঙ্গিরের মা। বউমাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ, সেই সময় নিজের মাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন জাহাঙ্গির। তাঁর পায়ে গভীর ক্ষত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি দেখে আশপাশের বাসিন্দারাও ঘটনাস্থলে জড়ো হন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। রক্তাক্ত অবস্থায় রুকসানাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন বলে জানা গিয়েছে। পরে তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্তের আহত মাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং কীভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটল, তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ঘটনার পর আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ, হামলায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটি সঙ্গে নিয়ে থানায় পৌঁছে আত্মসমর্পণ করেন জাহাঙ্গির। পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি কীটনাশক খেয়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্রে খবর।

ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ হামলা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পারিবারিক অশান্তিই কি ঘটনার একমাত্র কারণ, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও বিষয় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে কোনও সমস্যা চলছিল কি না, অভিযুক্তের নেশার বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং ঘটনার আগে ঠিক কী হয়েছিল—সব দিকই তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।

ধূপগুড়ির ভেমটিয়ায় এই ঘটনায় একদিকে যেমন এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে, তেমনই নিজের বউমাকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন অভিযুক্তের মা। রক্তাক্ত অস্ত্র হাতে অভিযুক্তের থানায় আত্মসমর্পণের ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলেই আশা পুলিশের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন