শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি ঘিরে সারা দেশে শুরু হয়ে যায় উৎসবের প্রস্তুতি। বাড়িতে বাড়িতে কৃষ্ণের মূর্তি সাজানো, উপবাস, পুজো, ভোগ নিবেদন থেকে শুরু করে মধ্যরাতে জন্মলীলার আয়োজন—সব মিলিয়ে জন্মাষ্টমীর দিনটির আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। জন্মাষ্টমী ২০২৬ কবে, কলকাতায় পুজোর সময় কখন, উপবাসের নিয়ম কী, পারণ কখন করতে হবে এবং কৃষ্ণকে কী ভোগ দেবেন—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর একসঙ্গে জেনে নিন।
২০২৬ সালে কলকাতায় শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী পালিত হবে ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। কলকাতার স্থানীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী, ওই দিনই কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি এবং রোহিণী নক্ষত্রের সংযোগে জন্মাষ্টমীর মূল পুজো হবে। কলকাতার একটি স্থানীয় মন্দিরের উৎসব ক্যালেন্ডারেও ৪ সেপ্টেম্বরকে শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু কলকাতা নয়, ২০২৬ সালে ISKCON-এর হিসাবেও জন্মাষ্টমী ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। কলকাতার ISKCON Newtown-ও ওই দিনই জন্মাষ্টমী উৎসবের আয়োজন করছে। ফলে এ বছর কলকাতায় জন্মাষ্টমীর তারিখ নিয়ে কোনও বিভ্রান্তির কারণ নেই।
জন্মাষ্টমী ২০২৬ কবে?
তারিখ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার।
হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী ভাদ্রপদ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি পালিত হয়। ২০২৬ সালে কলকাতার হিসাবে অষ্টমী তিথি শুরু হচ্ছে ৪ সেপ্টেম্বর রাত ২টা ২৫ মিনিটে এবং শেষ হচ্ছে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১৩ মিনিটে। রোহিণী নক্ষত্র শুরু হবে ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ২৯ মিনিটে এবং শেষ হবে রাত ১১টা ৪ মিনিটে।
এই তিথি-নক্ষত্রের অবস্থান এবং নিশীথকালের সংযোগের কারণেই ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জন্মাষ্টমীর পুজোর জন্য নির্ধারিত হয়েছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পুজোর রীতি ও পঞ্জিকা গণনায় সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। তাই যাঁরা নির্দিষ্ট কোনও মঠ, মন্দির বা সম্প্রদায়ের নিয়ম অনুসরণ করেন, তাঁরা সেই প্রতিষ্ঠানের পঞ্জিকাও দেখে নিতে পারেন।
কলকাতায় জন্মাষ্টমীর পুজোর সময় কখন?
জন্মাষ্টমীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হল নিশীথকাল, অর্থাৎ হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী মধ্যরাতের সময়। বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময়েই শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল। তাই জন্মাষ্টমীর মূল পুজো ও জন্মলীলার আয়োজন সাধারণত নিশীথকালেই করা হয়।
কলকাতায় ২০২৬ সালের নিশীথ পুজোর সময় রাত ১১টা ১৩ মিনিট থেকে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট। অর্থাৎ প্রায় ৪৬ মিনিটের এই সময়টিকে কৃষ্ণপুজোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হচ্ছে। মধ্যরাতের মুহূর্ত কলকাতায় রাত ১১টা ৩৬ মিনিট।
এই সময়েই বাড়িতে কৃষ্ণের জন্মমুহূর্তের প্রতীকী আয়োজন করা যায়। অনেক পরিবারে ছোট কৃষ্ণের মূর্তি বা লাড্ডু গোপালকে নতুন পোশাক পরিয়ে দোলনায় বসানো হয়। নিশীথকালে পুজো, অভিষেক, আরতি ও ভোগ নিবেদনের পর প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

জন্মাষ্টমীতে উপবাসের নিয়ম কী?
জন্মাষ্টমীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রীতি হল উপবাস। তবে উপবাসের ধরন প্রত্যেকের শারীরিক সামর্থ্য, বয়স এবং প্রচলিত পারিবারিক বা ধর্মীয় রীতির উপর নির্ভর করে। কেউ নির্জলা উপবাস করেন, কেউ ফলাহার করেন, আবার কেউ নির্দিষ্ট উপবাসের খাবার গ্রহণ করেন।
প্রচলিত পঞ্জিকা-ভিত্তিক নিয়মে জন্মাষ্টমীর আগের দিন একবার খাবার খেয়ে পরের দিন সংকল্প নিয়ে উপবাস শুরু করার কথা বলা হয়। উপবাসের দিন সাধারণত শস্যজাত খাবার এড়িয়ে চলার রীতি রয়েছে। তবে কঠোর উপবাস সবার জন্য উপযুক্ত নয়—অসুস্থ, প্রবীণ, শিশু, গর্ভবতী বা নিয়মিত ওষুধ সেবনকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিজের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
অনেক পরিবারে ফল, দুধ, দই, মাখন, বাদাম, সাবুদানা, বিভিন্ন ফলাহারি পদ ইত্যাদি খেয়ে উপবাস পালন করা হয়। আবার কেউ সম্পূর্ণ নির্জলা উপবাসও করেন। কোন পদ্ধতি অনুসরণ করবেন, তা পারিবারিক রীতি বা নিজের অনুসৃত ধর্মীয় বিধির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়াই ভালো।
উপবাসের মূল উদ্দেশ্য কেবল খাবার না খাওয়া নয়। দিনভর ভক্তি, প্রার্থনা, জপ, পাঠ এবং সংযমের মধ্য দিয়ে শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি পালন করাই এই ব্রতের মূল ভাবনা।

জন্মাষ্টমীর পারণ কখন?
উপবাসের পর যে নিয়মে ব্রত ভাঙা হয়, তাকে বলা হয় পারণ। জন্মাষ্টমীর ক্ষেত্রে পারণের সময় নির্ধারণে অষ্টমী তিথি ও রোহিণী নক্ষত্রের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।
কলকাতার হিসাবে ২০২৬ সালে অষ্টমী তিথি শেষ হচ্ছে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১৩ মিনিটে। রোহিণী নক্ষত্র শেষ হচ্ছে তার আগেই, ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৪ মিনিটে। ধর্মশাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, কলকাতায় জন্মাষ্টমীর পারণ ৫ সেপ্টেম্বর সূর্যোদয়ের পর সকাল ৫টা ২০ মিনিট থেকে করা যাবে।
অন্যদিকে কিছু জায়গায় প্রচলিত সামাজিক রীতিতে নিশীথ পুজোর পরেই উপবাস ভাঙার চল রয়েছে। কলকাতার জন্য এই বিকল্প হিসাবে ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের পরের সময় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ধর্মশাস্ত্রীয় পারণ অনুসরণ করতে চাইলে পরের দিন সূর্যোদয়ের পর নির্দিষ্ট সময় মেনে চলাই প্রাসঙ্গিক।
তাই যাঁরা কঠোর ব্রত পালন করবেন, তাঁদের জন্য ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৫টা ২০ মিনিটের পর পারণ করার নিয়মটি বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। নিজের সম্প্রদায় বা পরিবারের নির্দিষ্ট নিয়ম থাকলে অবশ্য সেটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
জন্মাষ্টমীর পুজোয় কী কী লাগবে?
বাড়িতে সাধারণভাবে জন্মাষ্টমীর পুজো করতে খুব জটিল আয়োজনের প্রয়োজন নেই। পরিষ্কার জায়গায় কৃষ্ণের মূর্তি বা ছবি রেখে ভক্তিভরে পুজো করাই মূল বিষয়।
পুজোর জন্য সাধারণত রাখা যেতে পারে—
- শ্রীকৃষ্ণ বা লাড্ডু গোপালের মূর্তি
- নতুন পোশাক বা পাগড়ি
- ফুল ও তুলসীপাতা
- চন্দন
- ধূপ ও প্রদীপ
- গঙ্গাজল বা পরিষ্কার জল
- পঞ্চামৃতের উপকরণ
- দুধ, দই, ঘি, মধু ও চিনি
- ফল
- মাখন ও মিশ্রি
- ভোগের অন্যান্য সামগ্রী
- নৈবেদ্যের থালা
- ছোট দোলনা, যদি বাড়িতে জন্মলীলার আয়োজন করা হয়
সব উপকরণ একসঙ্গে জোগাড় করা সম্ভব না হলেও সমস্যা নেই। ভক্তিভরে ফুল, তুলসী, জল, ফল এবং সামর্থ্য অনুযায়ী নৈবেদ্য দিয়েও পুজো করা যায়।
জন্মাষ্টমীর পুজোর নিয়ম কী?
অনেক বাড়িতে জন্মাষ্টমীর দিন সকালে স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরে উপবাসের সংকল্প নেওয়া হয়। এরপর কৃষ্ণের ছবি বা মূর্তির সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে পুজোর প্রস্তুতি শুরু করা হয়।
নিশীথকালে মূল পুজোর আগে কৃষ্ণের মূর্তি পরিষ্কার করে পঞ্চামৃত দিয়ে প্রতীকী অভিষেক করা যেতে পারে। এরপর পরিষ্কার জল দিয়ে স্নান করিয়ে নতুন পোশাক, চন্দন, ফুল, তুলসী ও অন্যান্য উপাচার দিয়ে সাজানো হয়।
পুজোর সময় শ্রীকৃষ্ণের নাম জপ, কৃষ্ণের স্তোত্র বা গীতার শ্লোক পাঠ করা যায়। পরিবারের রীতি অনুযায়ী কৃষ্ণের আরতি করা হয়। মধ্যরাতের মুহূর্তে শঙ্খধ্বনি, ঘণ্টা ও কীর্তনের মাধ্যমে জন্মলীলার আনন্দ পালন করেন অনেক ভক্ত।
পঞ্জিকা-ভিত্তিক বিস্তারিত পুজো পদ্ধতিতে ষোড়শোপচারের কথাও বলা হয়। অর্থাৎ দেবতাকে বিভিন্ন উপাচার দিয়ে পূজা করার একটি বিস্তৃত পদ্ধতি রয়েছে। তবে বাড়ির সাধারণ পুজোয় প্রত্যেকটি ধাপ পালন করা বাধ্যতামূলক নয়; নিজের পারিবারিক রীতি অনুযায়ী পুজো করা যায়।
জন্মাষ্টমীতে কৃষ্ণকে কী ভোগ দেবেন?
শ্রীকৃষ্ণের পুজোয় মাখন ও মিশ্রি অত্যন্ত জনপ্রিয় ভোগ। কৃষ্ণের বাল্যলীলার সঙ্গে মাখনের সম্পর্ক থাকার কারণে জন্মাষ্টমীর দিনে অনেক পরিবারে মাখন-মিশ্রি নিবেদন করা হয়।
এর পাশাপাশি দুধ, দই, ক্ষীর, পায়েস, ফল, নানা ধরনের মিষ্টি এবং বাড়িতে তৈরি নিরামিষ পদ ভোগে রাখা যায়। উপবাস পালন করলে ফলাহারি উপকরণ দিয়ে আলাদা ভোগ তৈরি করা হয়।
অনেক বাড়িতে পঞ্জিরি, লাড্ডু, নারকেলের তৈরি মিষ্টি, শুকনো ফল এবং বিভিন্ন ফলও নৈবেদ্য হিসেবে দেওয়া হয়। তবে ভোগের তালিকা কোনও একটিমাত্র নির্দিষ্ট খাবারে সীমাবদ্ধ নয়। অঞ্চল, পরিবার ও সম্প্রদায় অনুযায়ী এর যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
কলকাতার ISKCON Newtown-এর ২০২৬ সালের জন্মাষ্টমী আয়োজনেও মাখন-মিশ্রি ভোগ বিশেষভাবে রাখা হয়েছে।
জন্মাষ্টমীতে কী খাবেন, কী খাবেন না?
যাঁরা উপবাস পালন করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মে সাধারণ শস্যজাত খাবার এড়িয়ে চলা হয়। চাল, গম, ডাল-সহ নিয়মিত খাদ্যতালিকার একাধিক শস্য উপবাসের সময় গ্রহণ না করার রীতি রয়েছে।
তার পরিবর্তে ফল, দুধ, দই, বাদাম, মাখন, মিশ্রি এবং বিভিন্ন ফলাহারি খাবার অনেকেই গ্রহণ করেন। সাবুদানা, কুট্টু বা অন্যান্য উপবাস-অনুমোদিত খাবারও অনেক পরিবারের খাদ্যতালিকায় থাকে।
তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—সব সম্প্রদায়ের উপবাসের নিয়ম এক নয়। কারও বাড়িতে ফলাহার চলে, কোথাও আবার নির্জলা ব্রত পালন করা হয়। তাই কোনও একটি নিয়মকে সবার জন্য বাধ্যতামূলক হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি বা যাঁদের নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা স্বাস্থ্যকর নাও হতে পারে। তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ এবং পরিবারের প্রচলিত সহজ উপবাস-পদ্ধতি অনুসরণ করাই নিরাপদ।
জন্মাষ্টমীতে কৃষ্ণের নাম জপ
জন্মাষ্টমীর দিন কৃষ্ণের নামস্মরণ ও ভজনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। অনেক ভক্ত ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মহামন্ত্র জপ করেন। কেউ কৃষ্ণের নামাবলি, গীতা পাঠ বা কৃষ্ণভক্তিমূলক স্তোত্র পাঠ করেন।
বাড়িতে খুব বড় আয়োজন না থাকলেও সন্ধ্যার পর প্রদীপ জ্বালিয়ে কৃষ্ণের সামনে বসে কিছুক্ষণ নামজপ বা প্রার্থনা করা যায়। মধ্যরাতে জন্মপুজোর সময় পরিবারের সকলে একসঙ্গে আরতি ও কীর্তনে অংশ নিলে উৎসবের আবহ আরও আনন্দময় হয়ে ওঠে।
জন্মাষ্টমী মূলত ভক্তি, সংযম ও আনন্দের উৎসব। তাই শুধু আচার পালন নয়, দিনের মূল ভাবনাটি মনে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
জন্মাষ্টমীর সঙ্গে দহি হান্ডির সম্পর্ক কী?
শ্রীকৃষ্ণের বাল্যকালের মাখনচুরির কাহিনির সঙ্গে যুক্ত জনপ্রিয় উৎসবগুলির মধ্যে অন্যতম হল দহি হান্ডি। বিশেষ করে মহারাষ্ট্র ও গোয়ার মতো রাজ্যে এটি বড় আকারে পালিত হয়। জন্মাষ্টমীর পরের দিন বিভিন্ন জায়গায় দহি হান্ডির আয়োজন করা হয়।
২০২৬ সালে কলকাতার হিসাবে দহি হান্ডি পড়ছে ৫ সেপ্টেম্বর, শনিবার। ফলে ৪ সেপ্টেম্বর জন্মাষ্টমীর মূল উৎসবের পরের দিনই দহি হান্ডি ও নন্দোৎসব ঘিরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হতে পারে।
জন্মাষ্টমীর গুরুত্ব কী?
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল অত্যাচারী কংসের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে। কৃষ্ণের জন্মকাহিনি তাই শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে যুক্ত নয়, ধর্ম, ন্যায়, কর্তব্য ও মানবিকতার নানা ভাবনার সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে।
জন্মাষ্টমীর রাতে মন্দিরে কীর্তন, ভজন, পাঠ এবং বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। বাড়িতেও ছোট পরিসরে কৃষ্ণের জন্মলীলাকে স্মরণ করে পুজো করা হয়। শিশুদের জন্য কৃষ্ণের বাল্যকাহিনি বলা, কৃষ্ণের সাজে সাজানো এবং দোলনায় লাড্ডু গোপালকে বসানোর রীতিও বহু পরিবারে দেখা যায়।
জন্মাষ্টমী নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি এক নজরে
জন্মাষ্টমী: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার
অষ্টমী তিথি শুরু: ৪ সেপ্টেম্বর, রাত ২টা ২৫ মিনিট
অষ্টমী তিথি শেষ: ৫ সেপ্টেম্বর, রাত ১২টা ১৩ মিনিট
রোহিণী নক্ষত্র শুরু: ৪ সেপ্টেম্বর, রাত ১২টা ২৯ মিনিট
রোহিণী নক্ষত্র শেষ: ৪ সেপ্টেম্বর, রাত ১১টা ৪ মিনিট
কলকাতায় নিশীথ পুজো: রাত ১১টা ১৩ মিনিট থেকে ১১টা ৫৯ মিনিট
মধ্যরাতের মুহূর্ত: রাত ১১টা ৩৬ মিনিট
ধর্মশাস্ত্রীয় পারণ: ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৫টা ২০ মিনিটের পর
দহি হান্ডি: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার
এই সময়গুলি কলকাতার স্থানীয় সময় অনুযায়ী। অন্য শহরে সূর্যোদয় ও পঞ্জিকার হিসাবের পার্থক্যের কারণে পুজো ও পারণের সময় কিছুটা এগিয়ে-পিছিয়ে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, জন্মাষ্টমী ২০২৬ পালিত হবে ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। কলকাতায় রাত ১১টা ১৩ মিনিট থেকে ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত নিশীথ পুজোর সময়টিই এবারের উৎসবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। উপবাস পালন করলে পরের দিন ধর্মশাস্ত্রীয় হিসাবে সকাল ৫টা ২০ মিনিটের পর পারণ করা যাবে। বাড়িতে সাধারণ নিয়মে পুজো হোক বা মন্দিরে বিশেষ আয়োজন—কৃষ্ণের জন্মতিথিকে ঘিরে ভক্তি, প্রার্থনা এবং আনন্দেই কাটবে এবারের জন্মাষ্টমী।



