সপ্তাহের দ্বিতীয় ট্রেডিং সেশনেই ফের চাপের মুখে পড়ল ভারতীয় শেয়ার বাজার। মঙ্গলবার ১৮ অগস্ট বাজার খোলার পর থেকেই সেনসেক্স ও নিফটি ৫০ লাল দাগে রয়েছে। সকাল ৯টা ৪৮ মিনিট নাগাদ সেনসেক্স ৭৭,৪১৮.০৬ পয়েন্টে নেমে ০.৪০ শতাংশ কমেছিল, আর নিফটি ৫০ ২৪,২১৯.৮০ পয়েন্টে নেমে ০.২৭ শতাংশ হারায়। মূল সূচকগুলির এই পতনের পিছনে আন্তর্জাতিক বাজারের দুর্বল মনোভাব, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
আগের দিনের ক্লোজিংয়ের তুলনায় মঙ্গলবার নিম্নস্তর থেকেই লেনদেন শুরু করে বাজার। সোমবারের লেনদেনে সেনসেক্স ৭৭,৭২৮.১৬ পয়েন্টে এবং নিফটি ৫০ ২৪,২৮৭.৬৫ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছিল। ফলে টানা কয়েকটি সেশনের পতনের পর মঙ্গলবারও বাজারে বিক্রির চাপ বজায় রয়েছে।
বাজারের উপর সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯১ ডলারের উপরে উঠে যাওয়ায় ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি খরচ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়াও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তুলেছে।
শুধু তেলের দাম নয়, মার্কিন ১০ বছরের বন্ডের ফলন বৃদ্ধিও ভারতীয় বাজারে চাপ তৈরি করছে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে মার্কিন সম্পদের আকর্ষণ বাড়তে পারে এবং উদীয়মান বাজার থেকে বিদেশি অর্থ বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সোমবার ভারতীয় বাজারে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা প্রায় ২,৫৩৫ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন বলে Reuters জানিয়েছে।
সেক্টরভিত্তিক লেনদেনেও ছবিটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। মঙ্গলবার সকালের লেনদেনে ১৬টি প্রধান সেক্টরের মধ্যে ৯টি সূচক নিম্নমুখী ছিল। তথ্যপ্রযুক্তি বা IT সূচক প্রায় ১.৪ শতাংশ পড়ে সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে ছিল। মিড-ক্যাপ সূচকও প্রায় ০.৫ শতাংশ কমেছে। অন্য দিকে, স্মল-ক্যাপ অংশ তুলনামূলক ভাবে স্থিতিশীল ছিল।
সোমবারও বাজারে একই ধরনের চাপ দেখা গিয়েছিল। সেই দিন নিফটি ৫০ টানা পঞ্চম সেশন পতনের মধ্যে দিয়ে ২৪,২৮৭.৬৫ পয়েন্টে বন্ধ হয়। সেনসেক্সও ০.৩৬ শতাংশ কমে ৭৭,৭২৮.১৬ পয়েন্টে থামে। ফলে মঙ্গলবারের পতন বাজারের সাম্প্রতিক দুর্বল প্রবণতাকেই আরও স্পষ্ট করেছে।
তবে বাজারে একেবারে সর্বত্র বিক্রির ছবি দেখা যাচ্ছে না। নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। মঙ্গলবারের সকালের লেনদেনে Indo-MIM প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে, কারণ সংস্থাটি জুন ত্রৈমাসিকে মুনাফায় ৩২ শতাংশ বৃদ্ধির খবর জানিয়েছে। Highway Infrastructure-ও National Highways Authority of India-এর প্রায় ৮০.১৭ কোটি টাকার চুক্তি পাওয়ার খবরের পর প্রায় ৪ শতাংশ এগিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাজারের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, অপরিশোধিত তেলের দাম এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আচরণের উপর। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কোনও ইতিবাচক পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে বিনিয়োগকারীদের।
সব মিলিয়ে, মঙ্গলবারের শুরুতেই সেনসেক্স ও নিফটির পতন ফের ভারতীয় শেয়ার বাজারে সতর্কতার বার্তা দিয়েছে। তেলের দাম ৯১ ডলারের উপরে থাকা এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আপাতত বাজারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ফলে অস্থিরতার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা এখন আন্তর্জাতিক সংকেত এবং বাজারের পরবর্তী সাপোর্ট লেভেলের দিকে নজর রাখছেন।



