‘দেশের জন্য বুলেট খেতেও রাজি’, নিউজিল্যান্ড সফরে গম্ভীরের নতুন চ্যালেঞ্জ

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর এবার ওয়ানডে ও টেস্টের চ্যালেঞ্জ ভারতের সামনে। টানা ক্রিকেটের চাপ, মানসিক ক্লান্তি এবং অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ নিয়ে মুখ খুললেন কোচ গৌতম গম্ভীর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

টানা ক্রিকেটের ধকল, একের পর এক সিরিজ এবং প্রত্যাশার প্রবল চাপ। তবুও দায়িত্ব থেকে সরে আসার কোনও প্রশ্নই নেই ভারতের হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir)। প্রয়োজনে দেশের জন্য বুলেটের সামনেও দাঁড়াতে রাজি তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে হ্যামিল্টনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন ভারতীয় দলের কোচ। একইসঙ্গে আগামী ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজের জন্য দলকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন তিনি।

ভারতীয় ক্রিকেট দলের ব্যস্ত সূচিতে বিশ্রামের সুযোগ কার্যত নেই। এক সিরিজ শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয়ে যাচ্ছে পরেরটির প্রস্তুতি। ক্রিকেটারদের পাশাপাশি এই চাপ সামলাতে হচ্ছে কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদেরও। গম্ভীরও স্বীকার করেছেন, একাধিক ফরম্যাটে দলের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে কখনও কখনও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন তিনি। তবে দেশের হয়ে কাজ করার সুযোগকে সবচেয়ে বড় সম্মান বলেই মনে করেন ভারতের হেড কোচ।

‘আমি বুলেটের সামনেও দাঁড়াতে রাজি’, স্পষ্ট বার্তা গম্ভীরের

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে গম্ভীরকে তাঁর কাজের চাপ এবং মানসিক ক্লান্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি জানান, পেশাদার হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনও অজুহাত দিতে চান না। চাপ সামলানোর ক্ষমতা তাঁর রয়েছে এবং যত দিন সম্ভব এই দায়িত্ব পালন করে যেতে চান।

গম্ভীরের কথায়, তিনি মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়েছেন, তবে সেই চাপ সামলে নেওয়ার মতো শক্তিও তাঁর রয়েছে। দেশের হয়ে কাজ করার সুযোগের সঙ্গে অন্য কোনও কিছুর তুলনা চলে না। প্রয়োজনে দেশের জন্য বুলেটের সামনেও দাঁড়াতে প্রস্তুত তিনি।

ভারতের মতো দলের কোচ হলে প্রত্যাশা ও সমালোচনা যে সব সময় থাকবে, তা ভালোভাবেই জানেন গম্ভীর। প্রতিটি ম্যাচ জেতার প্রত্যাশা থাকে সমর্থকদের। সামান্য ব্যর্থতাতেও কোচের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু সেই সমালোচনাকে দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে আসার কারণ হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি। তাঁর কাছে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজিল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর নিউজিল্যান্ডে পৌঁছে খুব বেশি অনুশীলনের সুযোগ পায়নি ভারতীয় দল। দীর্ঘ বিমানযাত্রার ধকল কাটিয়ে মাত্র এক দিন প্রস্তুতির সুযোগ পেয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। তার পরেও প্রথম তিনটি ম্যাচ জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ নিজেদের পকেটে পুরে নেয় ভারত।

দলের এই পারফরম্যান্সে খুশি গম্ভীর। তাঁর মতে, সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহাওয়া, পরিবেশ এবং মাঠের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে যে ভাবে ক্রিকেটাররা চাপ সামলেছেন, তা প্রশংসার যোগ্য। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বেশ কয়েক জন ক্রিকেটারের প্রথম সফর হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা যে মানসিকতা দেখিয়েছেন, তাতে সন্তুষ্ট কোচ।

তবে সিরিজের শেষ ছবিটা ভারতের জন্য খুব একটা স্বস্তির ছিল না। প্রথম তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করার পর শেষ দু’টি ম্যাচেই হেরে যায় ভারত। হ্যামিল্টনে পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে সাত উইকেটে জয় পায় নিউজিল্যান্ড। ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ শেষ হয় ভারতের পক্ষে ৩-২ ব্যবধানে।

টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হওয়ার পর এবার ভারতের সামনে ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এই দুই ফরম্যাটে ভালো ফল করা যে সহজ হবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন গম্ভীর। তাঁর মতে, টি-টোয়েন্টির তুলনায় ওয়ানডে এবং টেস্টে পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠিন হতে পারে। তাই পরিকল্পনায় কোনও খামতি রাখতে চাইছে না ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হওয়ার কথা ৪ নভেম্বর। এরপর ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যেই ক্রিকেটারদের সাদা বল থেকে লাল বলের ক্রিকেটে মানিয়ে নিতে হবে। এই পরিবর্তনের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি প্রয়োজন বলে মনে করেন গম্ভীর।

টেস্ট ক্রিকেটের প্রস্তুতির জন্য তিন দিনের সময় যথেষ্ট নয় বলেও মত জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, লাল বলের ক্রিকেটে ভালো ফল করতে হলে অন্তত আট থেকে ন’দিনের প্রস্তুতি প্রয়োজন। সূচি নির্ধারণের দায়িত্ব বিসিসিআইয়ের হলেও প্রতিটি ফরম্যাটের প্রস্তুতিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বোলিং বিভাগ। গম্ভীরের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিজ্ঞতার নিরিখে নিউজিল্যান্ডের পরিস্থিতিতে ভারতের বোলিং আক্রমণ কিছুটা পিছিয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে এতটা অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ নিয়ে নামা দলের কাছে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।

টেস্ট ক্রিকেটেও বোলারদের অভিজ্ঞতার অভাব নিয়ে সতর্ক গম্ভীর। তাঁর মতে, ব্যাটিং বিভাগ নিয়ে আপাতত বিশেষ উদ্বেগ নেই। কিন্তু বোলারদের উপর বাড়তি দায়িত্ব থাকবে। প্রতিপক্ষের ঘরের মাঠে কঠিন পরিস্থিতিতে ধারাবাহিকভাবে ভালো বল করতে না পারলে সিরিজ জেতা কঠিন হবে।

ফলে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজে ভারতীয় বোলারদের পারফরম্যান্সই বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। গম্ভীরের বক্তব্য, দল ভালো ফল করলে বোলারদের অবদানই সবচেয়ে বেশি প্রশংসার দাবি রাখবে।

টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে জয় দিয়ে শুরু হলেও শেষের দু’টি হার ভারতের সামনে কিছু প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এবার ওয়ানডে ও টেস্টে সেই ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোই লক্ষ্য। চাপ, ক্লান্তি এবং কঠিন সূচির মাঝেও গম্ভীরের বার্তা পরিষ্কার—দেশের হয়ে খেলতে বা দায়িত্ব পালন করতে কোনও অজুহাত নয়, লক্ষ্য একটাই জয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর