‘এটা ক্রিকেট নয়’! জয়ের পরও অখুশি গম্ভীর, সেলিব্রেশন নিয়ে কী বললেন হিটম্যান

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪০৫ রান তাড়া করে ভারত জিতেছে আট উইকেটে। গিলের ২২৩ ও রোহিতের ১০১-এর পরও গুয়াহাটির পিচ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন গম্ভীর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

এক ম্যাচে ৮১১ রান। পাঁচটি সেঞ্চুরি। তার মধ্যে শুভমন গিলের ব্যাট থেকে এল রেকর্ড গড়া ২২৩ রানের অপরাজিত ইনিংস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪০৫/৭ রান ভারত পেরিয়ে গেল মাত্র ৪৩.৩ ওভারে। আট উইকেটের জয়ে সিরিজও নিজেদের করে নিল ভারত। কিন্তু এমন রানের উৎসবেও খুশি নন ভারতের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর। তাঁর আপত্তি মূলত গুয়াহাটির পিচ নিয়ে।

ম্যাচের পর সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে গম্ভীর বলেন, ব্যাট ও বলের মধ্যে আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা দরকার। তাঁর কথায়, ক্রিকেটের বদলে এই ম্যাচে কার্যত শুধু ব্যাটিংই হয়েছে। কারণ এমন উইকেটে বোলারদের হাতে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের আটকানোর খুব বেশি সুযোগ থাকে না।

গম্ভীরের বক্তব্যের মূল উদ্বেগ তরুণ বোলারদের নিয়েও। একটি দল যদি ৪০০-র বেশি রান করে এবং অন্য দলও অনায়াসে সেই রান তাড়া করে ফেলে, তাহলে স্কোরবোর্ড ও দর্শকদের কাছে সেটি আকর্ষণীয় হলেও বোলারদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়। তাঁর মতে, আধুনিক ওয়ানডেতে ব্যাটারদের সুবিধা এমনিতেই অনেক, তাই পিচে বোলারদের জন্যও কিছুটা সহায়তা থাকা প্রয়োজন।

গুয়াহাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথমে ব্যাট করে ৪০৫/৭ রান তোলে। জন ক্যাম্পবেল, শাই হোপ এবং আমির জাঙ্গু শতরান করেন। জবাবে ভারত মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে ৪০৮ রান তুলে নেয়। গিল ২২৩ রানে অপরাজিত থাকেন এবং রোহিত শর্মা করেন ১০১।

দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮১১ রান হয়েছে, যা ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ-সমষ্টির তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের পেসারদের কেউই কার্যত নিয়ন্ত্রণ তৈরি করতে পারেননি; ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসারদের অবস্থাও ছিল একই।

ভারতের হয়ে এই ম্যাচে বোলিং আক্রমণে একাধিক বিকল্পকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের আগে দলের বেঞ্চ শক্তি যাচাই করাই এই সিরিজের অন্যতম উদ্দেশ্য। গম্ভীর জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের দল চূড়ান্ত করার আগে আরও কয়েকজন ক্রিকেটারকে সুযোগ দেওয়ার সময় রয়েছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪০৫ রান যে কোনও সাধারণ ওয়ানডেতে বড় লক্ষ্য। কিন্তু গুয়াহাটির উইকেটে সেই রানও যথেষ্ট মনে হয়নি। ভারতের হয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন রোহিত ও গিল।

দু’জনে প্রথম উইকেটেই ২৫৫ রান যোগ করেন। রোহিত ৭৫ বলে ১০১ রান করে আউট হন। এরপর গিল নিজের ইনিংসকে নিয়ে যান অন্য উচ্চতায়। ১৩৩ বলে ২২৩ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করেন ভারতীয় অধিনায়ক।

গিলের এই ইনিংস তাঁকে ওয়ানডেতে একাধিক রেকর্ডের সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি দ্বিতীয় ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে একাধিক ওয়ানডে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। একইসঙ্গে ওয়ানডেতে কোনও অধিনায়কের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ডও গড়েছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

দলের এমন বড় জয়ের পাশাপাশি নিজের শতরানেও স্বস্তি পেয়েছেন রোহিত শর্মা। দীর্ঘদিন পর ওয়ানডেতে শতরান পাওয়ার পর তাঁর উদযাপনও নজর কেড়েছে। শতরানের পর রোহিতকে অনেকটা শিশুসুলভ আনন্দে দৌড়তে দেখা যায়।

সেই উদযাপনের অর্থ কী, তা অবশ্য প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা করতে চাননি রোহিত। তাঁর বক্তব্য, কিছু বিষয় নিজের মধ্যে রাখাই ভালো। ফলে তাঁর সেই বিশেষ সেলিব্রেশনের নেপথ্যে কোনও নির্দিষ্ট বার্তা ছিল কি না, তা নিয়ে জল্পনা থাকলেও রোহিত নিজে বিষয়টি পরিষ্কার করেননি।

গুয়াহাটিতে জয় ভারতের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের সিরিজও নিশ্চিত করেছে। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ভারত এখন ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে। কিন্তু সিরিজ জয়ের আনন্দের মধ্যেও গম্ভীরের বক্তব্যে উঠে এসেছে ওয়ানডে ক্রিকেটের বৃহত্তর সমস্যা—ব্যাট ও বলের ভারসাম্য।

বিশেষ করে ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সময় এই বিষয়টি ভারতের টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটারদের এমন সহায়ক উইকেটে তরুণ পেসারদের প্রকৃত দক্ষতা যাচাই কতটা সম্ভব, সেই প্রশ্নই তুলেছেন গম্ভীর।

তাই গুয়াহাটির ম্যাচে ভারতীয় ব্যাটারদের রেকর্ডের পাশাপাশি আলোচনায় থাকবে পিচও। ৮১১ রানের ম্যাচ দর্শকদের বিনোদন দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু ভারতের হেড কোচের চোখে ওয়ানডে ক্রিকেটের আসল লড়াইটা আরও একটু ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া দরকার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন