অভিষেক পোড়েল মাঠে ব্যাট হাতে নজর কেড়েছেন, কিন্তু এবার তিনি শিরোনামে অন্য কারণে। আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক গড়া, সহবাস, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং ভয় দেখানোর অভিযোগে হুগলির মগরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন কর্নাটকের এক চিকিৎসা শিক্ষার্থী। অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগকারিণীর দাবি, প্রায় তিন বছর ধরে অভিষেক পোড়েলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ককে বিয়ের পরিণতি দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। তবে সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে এবং প্রায় দেড় বছর আগে থেকেই দু’পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সম্পর্কের সময় একসঙ্গে থাকার পাশাপাশি তাঁকে মানসিক চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শারীরিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিটমাট করার চেষ্টাও হয়েছিল বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারিণী।
মঙ্গলবার নিজের মাকে সঙ্গে নিয়ে মগরা থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন ওই তরুণী। অভিযোগ জমা পড়ার পর বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে হুগলি (গ্রামীণ) জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও থানায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন বলে সূত্রের খবর।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগে উত্থাপিত সমস্ত বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সমস্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন অভিষেক পোড়েল। বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে থাকা এই ক্রিকেটারের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটে সাফল্য পাওয়ার পরেই এমন অভিযোগ সামনে এসেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
অভিষেক জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি। তবে পুলিশ যোগাযোগ করলে তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলেও জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে বাংলার ক্রিকেটে অন্যতম উদীয়মান মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অভিষেক পোড়েল। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জেরে আইপিএলে সুযোগ পান তিনি এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
তবে এই অভিযোগের জেরে এখন ক্রিকেটের বাইরেও তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে ক্রিকেট মহল থেকে সাধারণ মানুষের।









