দুবাইয়ে ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে মহিলা এশিয়া কাপ ২০২৬-এর চ্যাম্পিয়ন হল ভারত। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৩ রান তোলে ভারত। জবাবে ১১১ রানেই অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। এই জয়ের ফলে রেকর্ড অষ্টমবার মহিলা এশিয়া কাপের ট্রফি ঘরে তুলল ভারতীয় দল।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল হরমনপ্রীত কৌরের দল। শেফালি বর্মা ও স্মৃতি মন্ধানার দুরন্ত ওপেনিং জুটি ভারতকে বড় রানের ভিত গড়ে দেয়। পরে বল হাতে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংকে চাপে ফেলে দেন ভারতের স্পিনাররা।
শেফালি-স্মৃতির ব্যাটে বিধ্বংসী শুরু:
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হরমনপ্রীত। সেই সিদ্ধান্তকে শুরু থেকেই সঠিক প্রমাণ করতে থাকেন দুই ওপেনার। পাওয়ার প্লে-তেই ভারতের স্কোর ৫৭ রানে পৌঁছে যায়।
শেফালি বর্মা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। মাত্র ২৪ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করে তিনি মহিলা এশিয়া কাপের ইতিহাসে দ্রুততম পঞ্চাশের নতুন রেকর্ড গড়েন। শেষ পর্যন্ত ৩৯ বলে ৬৮ রান করে ফেরেন ভারতীয় ওপেনার।
অন্য প্রান্তে ধীরে শুরু করেও ইনিংস যত এগিয়েছে, ততই আগ্রাসী হয়েছেন স্মৃতি মন্ধানা। তিনিও ৩৯ বলে ৫৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। দুই ওপেনারের ব্যাটে প্রথম উইকেটে ওঠে ১২৯ রান—ফাইনালে ভারতের বড় স্কোরের মূল ভিত্তি তৈরি হয়ে যায়।
হঠাৎ পরপর উইকেট, ২০০ পার হল না ভারত:
ভারতের স্কোর যখন ২০০ রানের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, তখনই ছন্দে ধাক্কা আসে। ৬৮ রানে শেফালির ইনিংস শেষ হয়। এরপর রান আউট হয়ে ফেরেন স্মৃতি মন্ধানাও।
হরমনপ্রীত কৌর বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। রিচা ঘোষও দ্রুত কিছু বাউন্ডারি মারলেও ১৭ রানে ফিরে যান। শেষ দিকে কয়েকটি উইকেট দ্রুত পড়ায় ২০ ওভারে ভারত থামে ১৮৩/৫-এ। তবু দুবাইয়ের পরিস্থিতিতে এই রান যথেষ্ট বড় লক্ষ্যই ছিল।
১৮৪ রানের লক্ষ্যে শুরু থেকেই চাপে শ্রীলঙ্কা:
জয়ের জন্য ১৮৪ রান প্রয়োজন ছিল শ্রীলঙ্কার। কিন্তু ইনিংসের শুরু থেকেই ভারতের বোলিং আক্রমণের সামনে রান তুলতে সমস্যায় পড়ে চামারি আতাপাত্তুর দল।
অধিনায়ক আতাপাত্তু অবশ্য চেষ্টা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ৩২ বলে ৩৬ রান করেন তিনি। কিন্তু তাঁকে সঙ্গ দেওয়ার মতো বড় ইনিংস আর কেউ খেলতে পারেননি। ভারতের স্পিনাররা মাঝের ওভারগুলিতে রান তোলার রাস্তা কার্যত বন্ধ করে দেন।
চরণী-দীপ্তির স্পিনে ম্যাচ ভারতের হাতে:
ভারতের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেন শ্রী চরণী ও দীপ্তি শর্মা। চরণী ৪ উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইন-আপে বড় ধাক্কা দেন। দীপ্তি নেন ৩ উইকেট। ক্রান্তি গৌড়, শেফালি বর্মা ও প্রেমা রাওয়াত একটি করে উইকেট পান।
আতাপাত্তুকে দীপ্তি শর্মা আউট করার পর শ্রীলঙ্কার রান তাড়ার শেষ আশাটুকুও কার্যত শেষ হয়ে যায়। ভারতীয় স্পিনের বিরুদ্ধে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলঙ্কা।
শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারেই ১১১ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। ফলে ৭২ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় ভারত।
রেকর্ড অষ্টম মহিলা এশিয়া কাপ ভারতের:
এই জয়ের সঙ্গে মহিলা এশিয়া কাপে ভারতের আধিপত্য আরও একবার স্পষ্ট হল। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে অষ্টমবারের মতো ট্রফি জিতল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। ২০২৪ সালের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর এবার সেই দলকেই হারিয়ে ট্রফি পুনরুদ্ধার করল ভারত।
এই ম্যাচে ব্যাট হাতে শেফালি-স্মৃতির জুটি এবং বল হাতে চরণী-দীপ্তির পারফরম্যান্সই ভারতের জয়ের মূল ভিত্তি হয়ে উঠল। বিশেষ করে শেফালির দ্রুততম অর্ধশতরান ফাইনালকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।



