নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করে ভোটের ময়দানে নামল কংগ্রেস। শুক্রবার রাতে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি (AICC) জানিয়ে দিয়েছে, নন্দীগ্রামে লড়বেন মিলন প্রধান এবং রেজিনগরে প্রার্থী হচ্ছেন মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি। আগামী ৬ অক্টোবর দুই কেন্দ্রে ভোট।
নন্দীগ্রামে ভূমি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত দীর্ঘদিনের কংগ্রেস কর্মী মিলন প্রধানকে প্রার্থী করেছে দল। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে ভরসা রাখা হয়েছে জেলা পরিষদের সদস্য মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফির উপর। তিনি বেলডাঙা এলাকা থেকে নির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্য এবং পরিষদে কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা।
দুই কেন্দ্রেই কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণা হল তৃণমূল, বিজেপি ও বামেদের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগেই। ফলে উপনির্বাচনের প্রস্তুতিতে কংগ্রেস যে এবার শুরু থেকেই সক্রিয়, সেই বার্তাই স্পষ্ট হল। দলের তরফে জানানো হয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেবেন।
নন্দীগ্রাম আসনটি খালি হয়েছে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়ায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হওয়ার পর তিনি ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন। সেই কারণেই এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে।
অন্যদিকে রেজিনগর আসনটি ছেড়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। তিনিও নওদা ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।
রেজিনগরে কংগ্রেসের কাফিকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। জেলা পরিষদের রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেতার উপর ভরসা রেখে স্থানীয় সংগঠনকে কাজে লাগিয়ে লড়াইয়ে নামতে চাইছে কংগ্রেস। নন্দীগ্রামেও মিলন প্রধানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচিতিকে সামনে রেখে লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণা এখনও হয়নি। দলের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের বিরোধের বিষয়টি এখন নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) বিবেচনায় রয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের পরই তৃণমূলের প্রতীক ও প্রার্থী সংক্রান্ত অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ভোট হবে এবং ৯ অক্টোবর ভোটগণনা। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন, ১৭ সেপ্টেম্বর হবে মনোনয়নপত্র পরীক্ষা এবং ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে।
ফলে পুজোর মুখে এই দুই উপনির্বাচন ঘিরে বাংলার রাজনীতির উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণা প্রথম বড় চাল হিসেবে সামনে এল। এখন নজর তৃণমূল ও বিজেপির প্রার্থী তালিকার দিকে—বিশেষ করে নন্দীগ্রামের মতো হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে শেষ পর্যন্ত কারা মুখোমুখি হন, তা নিয়েই বাড়ছে রাজনৈতিক কৌতূহল।



