ভারতের মাটিতে ব্রিকস (BRICS) সম্মেলন ঘিরে যখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির নজর নয়াদিল্লিতে, তখনই সামনে এল পাকিস্তানের সদস্যপদ পাওয়ার পুরনো চেষ্টা। ২০২৩ সাল থেকেই ব্রিকসে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করে রেখেছে ইসলামাবাদ। সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের সদস্যপদের পক্ষে রয়েছে চিন (China), রাশিয়ার কাছেও সমর্থন চেয়েছিল তারা। কিন্তু নয়াদিল্লির আপত্তির কারণে সেই উদ্যোগ এখনও সফল হয়নি।
বিশ্বের উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিগুলির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ ব্রিকস। ভারত, রাশিয়া, চিন-সহ একাধিক দেশের রাষ্ট্রনেতারা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। ইরান-আমেরিকা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের আবহে এবারের সম্মেলনের কূটনৈতিক গুরুত্বও যথেষ্ট বেশি। সেই সময় পাকিস্তানের ব্রিকসে প্রবেশের আগ্রহ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সূত্রের খবর, ২০২৩ সালেই ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছিল পাকিস্তান। বর্তমানে প্রায় ২৯টি দেশ এই জোটে যোগ দেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে আবেদন করেছে বলে জানা যাচ্ছে। সেই তালিকায় রয়েছে ইসলামাবাদও। পাকিস্তানের সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়ে চিনের সমর্থন রয়েছে বলেই সূত্রের দাবি। রাশিয়ার সমর্থন আদায়ের চেষ্টাও করেছিল পাকিস্তান।
কিন্তু পাকিস্তানের সেই উদ্যোগের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারত। ব্রিকসের সদস্যপদ সম্প্রসারণে সদস্য দেশগুলির ঐকমত্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালে সম্প্রসারণের সময় ছ’টি নতুন দেশকে গোষ্ঠীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। আর্জেন্টিনা, ইরান, সৌদি আরব, মিশর, ইথিওপিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সেই তালিকায় ছিল।
ব্রিকসের সম্প্রসারণের ফলে জোটটির আন্তর্জাতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সদস্য দেশগুলির সম্মিলিত জনসংখ্যা বিশ্বের প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও তাঁদের বড় অংশীদারি রয়েছে। ফলে পাকিস্তানের মতো অর্থনৈতিক চাপে থাকা দেশের কাছে এই জোটে প্রবেশ শুধু কূটনৈতিক সাফল্য নয়, বাণিজ্যিক সুযোগও তৈরি করতে পারে।
পাকিস্তানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছে। প্রবৃদ্ধির হারও তুলনামূলকভাবে কম। সেই পরিস্থিতিতে ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক মঞ্চে জায়গা করে নিয়ে নতুন বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে চাইছে ইসলামাবাদ। বিশেষ করে সদস্য দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর সম্ভাবনাই পাকিস্তানের আগ্রহের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের ক্ষেত্রেও ব্রিকস এখন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক মঞ্চ। বিভিন্ন সদস্য দেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারিত হয়েছে। ব্রিকস দেশগুলিতে ভারতের রফতানি ৪৮.৮ শতাংশ বেড়ে ৬৪.৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ৯৫.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী। ফলে পাকিস্তানও একই ধরনের বাণিজ্যিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে।
তবে পাকিস্তানের সদস্যপদ নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থানই এখন মূল প্রশ্ন। ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত টানাপোড়েনের কারণে ইসলামাবাদের ব্রিকসে প্রবেশকে দিল্লি কতটা সমর্থন করবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে চিনের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও ভারতের আপত্তি কাটানো পাকিস্তানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ফলে দিল্লিতে যখন ব্রিকসের মঞ্চে বিশ্বের বড় শক্তিগুলি নিজেদের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ সাজাচ্ছে, তখন ইসলামাবাদের নজরও সেই মঞ্চেই। চিন পাশে থাকলেও ভারতের সম্মতি ছাড়া পাকিস্তানের সদস্যপদ পাওয়ার সম্ভাবনা কতটা, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। নয়াদিল্লি শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নেয়, তার উপরই পাকিস্তানের বহুদিনের এই প্রচেষ্টার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।



