ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শেষ হাসি হাসলেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা (Luiz Inácio Lula da Silva)। দক্ষিণপন্থী প্রার্থী তথা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জাইর বোলসোনারোর ছেলে ফ্ল্যাভিও বোলসোনারোকে (Flávio Bolsonaro) হারিয়ে চতুর্থবারের জন্য দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন ৮০ বছর বয়সি লুলা। ব্রাজিলের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভোটে লুলা পেয়েছেন ৬ কোটি ৪২ লক্ষ ৫৬ হাজার ২৩২টি ভোট, যা বৈধ ভোটের ৫১.৭৯ শতাংশ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্ল্যাভিওর ঝুলিতে গিয়েছে ৫ কোটি ৯৮ লক্ষ ২৬ হাজার ৪১টি ভোট বা ৪৮.২১ শতাংশ। এই জয়ের ফলে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে বামপন্থী নেতৃত্বই ক্ষমতায় থাকল।
প্রথম দফার ভোটে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয় দফায় ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন লুলা। ২৫ অক্টোবর, রবিবার ব্রাজিলে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ হয়। ফল ঘোষণার পরেও হার মেনে নিতে রাজি হননি ফ্ল্যাভিও বোলসোনারো। ভোটপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচনের ফল বাতিলের দাবি জানান তিনি। তবে তাঁর অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ব্রাজিলের নির্বাচন কর্তৃপক্ষ সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্ট (Superior Electoral Court বা TSE)-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লুলার জয় নিশ্চিত হয়েছে ৪৪ লক্ষেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে। বৈধ ভোটের হিসাবে দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান ৩.৫৮ শতাংশ পয়েন্ট। বাতিল ও শূন্য ভোট মিলিয়ে সংখ্যাটি ৪১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৮০১।
প্রথম দফায় প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফার লড়াইয়ে নামতে হয়েছিল দুই প্রার্থীকে। সেই লড়াইয়ে শুরুতে এগিয়ে ছিলেন ফ্ল্যাভিও। কিন্তু চূড়ান্ত পর্বে ভোটের সমীকরণ বদলে দিয়ে জয় নিশ্চিত করেন লুলা। ১৯৮৯ সালে ব্রাজিলে সরাসরি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পুনরায় চালু হওয়ার পর প্রথম দফায় দ্বিতীয় স্থানে থেকেও দ্বিতীয় দফায় জিতে রাষ্ট্রপতি হওয়ার ঘটনা এই প্রথম বলে জানিয়েছে একাধিক সংবাদমাধ্যম।
লুলার এই জয় শুধু ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির সমালোচক লুলা ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব, সামাজিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে স্বাধীন অবস্থানের পক্ষে সওয়াল করে এসেছেন। অন্যদিকে, ফ্ল্যাভিও বোলসোনারো দক্ষিণপন্থী রাজনীতির পরিচিত মুখ এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জাইর বোলসোনারোর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন। তাঁর পরাজয় লাতিন আমেরিকায় দক্ষিণপন্থী রাজনীতির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মধ্যেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
২০০২ ও ২০০৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ের পর ২০২২ সালে ফের ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি হন লুলা। ২০২৬ সালের এই জয় তাঁর রাজনৈতিক জীবনে চতুর্থ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাফল্য এনে দিল। তবে নির্বাচনে জয় পেলেও রাজনৈতিক বিভাজন, জীবনযাত্রার খরচ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতি নিয়ে বিতর্কের মতো বিষয়গুলি তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।



