চোরবাগান বিপর্যয়ে তদন্তের গতি বাড়াল পুলিশ, থিমশিল্পী সুশান্ত শিবানী পালকে তলব

সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তে মণ্ডপের নকশা ও নির্মাণের খুঁটিনাটি জানতে শিল্পীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় লালবাজার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপ বিপর্যয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন পদক্ষেপ করল কলকাতা পুলিশ। মণ্ডপের নকশা ও নির্মাণ সংক্রান্ত তথ্য জানতে থিমশিল্পী সুশান্ত শিবানী পালকে লালবাজারে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বুধবারের মধ্যে তাঁকে হাজির হতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, এমন তিন প্রত্যক্ষদর্শীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তকারীরা জানতে চান, মণ্ডপটি কী ধরনের নকশা অনুসরণ করে তৈরি হয়েছিল, নির্মাণের সময় কী কী বিষয় বিবেচনা করা হয়েছিল এবং মণ্ডপের কাঠামোয় কোনও ত্রুটি ছিল কি না। তবে শিল্পীকে তলব করা হয়েছে বলেই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, এমনটা বলা যায় না। তদন্তের অংশ হিসেবেই তাঁর বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্য জানতে চাইছে পুলিশ।

গত ১৭ অক্টোবর, দুর্গাপুজোর সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীন পুজোমণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, আচমকা বৃষ্টি এবং ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সেই সময় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। তাঁরা পুজো দেখতে এসেছিলেন।

ঘটনার পর থেকেই মণ্ডপের নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং বিপদের মুহূর্তে পরিস্থিতি সামলানোর ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে এই বিপর্যয় ঘটল, কোথায় নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল এবং ঘটনার জন্য কারও গাফিলতি দায়ী কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।

তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এবার থিমশিল্পী সুশান্ত শিবানী পালের বক্তব্য জানতে চাইছে পুলিশ। মণ্ডপের নকশা তৈরির প্রক্রিয়া, কাঠামোর পরিকল্পনা এবং নির্মাণের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলি নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

মণ্ডপের নকশা ও বাস্তব কাঠামোর মধ্যে কোনও অসঙ্গতি ছিল কি না, নির্মাণে কী ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে এই বিষয়ে পুলিশের নির্দিষ্ট প্রশ্ন বা শিল্পীর বক্তব্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

দুর্ঘটনার পর শিল্পী নিজেও শোকাহত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর তৈরি মণ্ডপ দেখতে এসে এত মানুষের মৃত্যু হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তবে তদন্তে দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে আবেগের পাশাপাশি নকশা, নির্মাণ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ খতিয়ে দেখা জরুরি।

শুধু থিমশিল্পী নন, দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত তিন প্রত্যক্ষদর্শীকেও তলব করেছে পুলিশ। তাঁদের বক্তব্য থেকে ঘটনার আগের পরিস্থিতি, মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়ার মুহূর্ত এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, দুর্ঘটনার ঠিক আগে ভিড়ের পরিস্থিতি কেমন ছিল, কীভাবে মানুষ বেরোনোর চেষ্টা করছিলেন এবং উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ার আগে কী ঘটেছিল—এসব বিষয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের সঙ্গে অন্যান্য প্রমাণ মিলিয়ে দেখার পরেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ছবি পাওয়া সম্ভব হবে।

বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ঘটনার সময় মাইকে বিভ্রান্তিকর ঘোষণা করার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদও চলছে বলে সূত্রের খবর।

এবার শিল্পী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়ার মাধ্যমে তদন্তের আরও কয়েকটি দিক খতিয়ে দেখতে চাইছে পুলিশ। মণ্ডপের কাঠামোগত নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনার সময়ের ঘোষণাগুলির মধ্যে কোনও যোগসূত্র ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।

চোরবাগান বিপর্যয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের মূল লক্ষ্য হল দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা এবং কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা। থিমশিল্পী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের পাশাপাশি নির্মাণ সংক্রান্ত নথি, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং অন্যান্য প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে দায়ী বলে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। লালবাজারের তদন্তে পরবর্তী সময়ে কী তথ্য উঠে আসে, তার উপরই ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি নির্ভর করবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর