চোরবাগানকাণ্ডে মঞ্চ ভেঙে পড়ার ঘোষণা কোথায় হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT-এর। তদন্তকারীদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মূল থিম মণ্ডপের প্রবেশপথ অমর বসু সরণিতে মঞ্চ ভেঙে পড়ার কোনও ঘোষণা শোনা যায়নি। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত পুলিশকর্মী ও দর্শনার্থীদের বয়ান থেকে এই ইঙ্গিত মিলেছে বলে তদন্ত সূত্রে খবর।
চোরবাগানকাণ্ডে ঘোষণার স্থান নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বিভিন্ন বয়ান ও ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োর শব্দ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে তদন্ত এখনও চলছে। ফলে প্রাথমিকভাবে উঠে আসা তথ্যকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
SIT-এর তদন্তে কী জানা গেল?
তদন্ত সূত্রের দাবি, অমর বসু সরণি মূল থিম মণ্ডপের প্রবেশপথ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে মঞ্চ ভেঙে পড়ার ঘোষণা শোনেননি বলে জানিয়েছেন ওই সময় উপস্থিত পুলিশকর্মী ও দর্শনার্থীদের একাংশ।
তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, মণ্ডপের কাছাকাছি একটি ভিডিয়োয় ঘোষণার শব্দ শোনা গেলেও সেটি ঠিক কোথা থেকে করা হয়েছিল, তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োয় যে ঘোষণা শোনা যাচ্ছে, সেটি আসলে মুক্তারামবাবু স্ট্রিটে হয়েছিল।
অর্থাৎ, ঘোষণার শব্দ শোনা গেলেও মূল মণ্ডপের প্রবেশপথে উপস্থিত মানুষ সেই ঘোষণা শুনেছিলেন কি না, তা নিয়ে তদন্তে প্রশ্ন উঠেছে। এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে বয়ান ও ভিডিয়ো মিলিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
আপৎকালীন ঘোষণার জন্য বসানো হয়েছিল ১২টি মাইক
তদন্তে উঠে এসেছে, জরুরি পরিস্থিতিতে ঘোষণা করার জন্য পুজো কমিটির তরফে মোট ১২টি মাইক বসানো হয়েছিল। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, মুক্তারামবাবু স্ট্রিট এবং পার্বতী ঘোষ লেন এলাকায় ওই মাইকগুলি রাখা ছিল বলে তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে।
মঞ্চ ভেঙে পড়ার খবর এই মাইকগুলির মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। তবে কোন মাইক থেকে ঠিক কখন ঘোষণা করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় সেই ঘোষণা কতটা শোনা গিয়েছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
প্রাথমিক তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, অমর বসু সরণি থেকে বাঁ দিকে গিয়ে রামচন্দ্র চ্যাটার্জি লেন হয়ে মূল থিম মণ্ডপে পৌঁছনো যায়। ওই এলাকাতেও মঞ্চ ভেঙে পড়ার কোনও ঘোষণা শোনা যায়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার সময় মানুষের কাছে জরুরি বার্তা পৌঁছেছিল কি না, তা বোঝার ক্ষেত্রে ঘোষণার স্থান ও তার আওতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই এই বিষয়টি তদন্তের অন্যতম অংশ হয়ে উঠেছে।
ই-কমার্স সংস্থার পাস নিয়ে কী বিতর্ক?
চোরবাগানকাণ্ডে পাস বিতর্কও তদন্তের আওতায় এসেছে। তদন্ত সূত্রের দাবি, ধৃত ঘোষক জানিয়েছেন, ঘটনার আগে একটি ই-কমার্স সংস্থার পাস নিয়ে ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই পাস ভিআইপি লাইনে গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানানো হয়েছিল বলে তাঁর বক্তব্য।
ধৃতের দাবি অনুযায়ী, চুক্তিতে নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় বেশি পাস বিক্রি করা হয়েছিল। সেই কারণে পুজো কমিটির কর্তৃপক্ষ ওই পাস গ্রহণ করেনি বলে তিনি জানিয়েছেন।
তবে পাস সংক্রান্ত এই বক্তব্য ধৃত ঘোষকের দাবি হিসেবেই বিবেচ্য। পাসের সংখ্যা, চুক্তির শর্ত এবং পুজো কমিটির অবস্থান সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। তদন্তে এই সংক্রান্ত নথি বা অন্য কোনও প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানা যায়নি।
কার নির্দেশে হয়েছিল মঞ্চ ভাঙার ঘোষণা?
মঞ্চ ভেঙে পড়ার ঘোষণা ঠিক কার নির্দেশে করা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত সূত্রের দাবি, ধৃত দুই ঘোষক এ বিষয়ে তদন্তকারীদের কাছে মুখ খোলেননি।
ঘোষণা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিলেন, কখন সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং ঘোষণার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা কী নির্দেশ পেয়েছিলেন—এই প্রশ্নগুলির উত্তর তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে তদন্তকারীদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা ধৃতদের বক্তব্যের বিস্তারিত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
তদন্তের পরবর্তী ধাপে নজর
চোরবাগানকাণ্ডে ঘোষণার স্থান, ১২টি মাইকের ব্যবহার, পাস বিতর্ক এবং ঘোষকদের ভূমিকা—একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্ত সূত্রে খবর। প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া বয়ান ও ভিডিয়োর তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা চলছে।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও ব্যক্তি বা পক্ষের দায় নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায় না। SIT-এর চূড়ান্ত রিপোর্টে কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর।



