প্রতিমা বিসর্জনের সময়ে কারা মাতৃপ্রতিমা স্পর্শ করতে পারবেন, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। দশমীর সকালে কলকাতার বাজেকদমতলা ঘাট পরিদর্শনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, যাঁরা সনাতন ধর্ম মানেন, তাঁরাই প্রতিমায় হাত দেবেন। শুক্রবার এই প্রসঙ্গে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বিসর্জনের প্রক্রিয়া পরিচালনায় পুলিশের সরাসরি ভূমিকা নেই। পুলিশ মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনেই পুজো কমিটিগুলিকে কাজ করতে বলা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন নগরপাল।
কী বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?
গত বুধবার, ২১ অক্টোবর, দশমীর সকালে বাজেকদমতলা ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রস্তুতি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, বিসর্জনের সময়ে যাঁরা প্রতিমা নিয়ে যাবেন, তাঁদের নাম ও পরিচয় চিহ্নিত করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, যাঁরা সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী, তাঁরাই প্রতিমা স্পর্শ করবেন। তাঁর দাবি, এই নির্দেশের মধ্যে কোনও সাম্প্রদায়িকতার বিষয় নেই।
মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, কে সনাতনী আর কে সনাতনী নন, তা নির্ধারণ করা হবে কী ভাবে? সেই প্রশ্নই শুক্রবার কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের সামনে ওঠে।
বিসর্জনের প্রক্রিয়ায় পুলিশের ভূমিকা কী?
কলকাতার পুলিশ কমিশনার জানান, প্রতিমা বিসর্জনের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরেই নির্দিষ্ট রীতি মেনে চলে আসছে। ঘাটে থাকা কুলিদের সঙ্গে কথা বলে পুজো কমিটির সদস্যরা প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করেন। সেই প্রক্রিয়ায় পুলিশ সরাসরি যুক্ত থাকে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
অজয় নন্দের বক্তব্য, পুলিশের মূল দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা। বিসর্জনের সময়ে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করাই পুলিশের কাজ। প্রতিমা কী ভাবে নিয়ে যাওয়া হবে বা বিসর্জনের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া কী হবে, তা পুজো কমিটিগুলিই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করে।
‘কে সনাতনী, কে নন’, প্রশ্নে কী বললেন অজয় নন্দ?
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রশাসনের তরফে পুজো কমিটিগুলিকে নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে বলা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘যা নির্দেশ এসেছে, সেই মতো পুজো কমিটিকে বলা হয়েছে। সেই ভাবেই চলছে। পুজো কমিটি সবটা দেখছে।’
এর পরেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কে সনাতনী আর কে সনাতনী নন, তা কী ভাবে বোঝা হবে? উত্তরে অজয় নন্দ বলেন, ‘এটা তো আমি বলতে পারছি না। আমরা পুজো কমিটিকে বলেছি, বিধি মেনে সবটা করতে। আর সনাতন পদ্ধতি ছাড়া কোনও পুজো হয় বলে আমার জানা নেই। এটাই তো পুজোর বিধি।’
পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যে স্পষ্ট, সনাতনী পরিচয় কী ভাবে নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনও পদ্ধতির কথা জানাননি। বরং পুজো কমিটিগুলিকে বিধি মেনে বিসর্জনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে বলেই জানিয়েছেন তিনি।
পুজো কমিটির দায়িত্বেই বিসর্জনের ব্যবস্থা
অজয় নন্দের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিমা নিরঞ্জনের ক্ষেত্রে ঘাটের কুলিদের সঙ্গে সমন্বয় করে পুজো কমিটিগুলি কাজ করে। পুলিশ সেই প্রক্রিয়ার পরিচালনাকারী নয়; তাদের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। তবে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে চলার কথা পুজো কমিটিগুলিকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নগরপাল।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর সনাতনী পরিচয় নির্ধারণের প্রশ্নটি সামনে এসেছে। সেই প্রশ্নে কলকাতার পুলিশ কমিশনার নির্দিষ্ট কোনও ব্যাখ্যা দেননি। তিনি জানিয়েছেন, পুজো কমিটিগুলিকেই বিধি মেনে বিসর্জনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।



