পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে ফের আগের সরকারকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রবিবার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে তিনি দাবি করেন, আগের সরকারের আমলে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন (Bengal Global Business Summit বা BGBS) আয়োজনের পিছনে বিপুল অর্থ খরচ হলেও তার বাস্তব ফল দেখা যায়নি। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, বিনিয়োগের জন্য রাজ্যে সব শিল্পগোষ্ঠীকে স্বাগত জানানো হচ্ছে, তবে প্রতারণার সঙ্গে যুক্তদের জায়গা হবে না।
শিল্পায়নের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। কয়েকটি প্রকল্পের ভূমিপুজোও হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এই উদ্যোগ এককালীন নয়; প্রতি মাসেই নতুন কোনও কাজ বা প্রকল্পের অগ্রগতি সামনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কথা তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, রাজ্য ও জাতীয় স্তরের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলি পশ্চিমবঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, আগের সরকারের আমলে আয়োজিত বাণিজ্য সম্মেলনগুলিতে শত শত কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল, কিন্তু সেই উদ্যোগের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন প্রসঙ্গে আগের সরকারকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বৈঠকে চা-বিস্কুট বা চা-শিঙাড়ার মতো সাধারণ আয়োজনেই কাজ সারছে। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে শিল্পের নামে প্রতারণা হয়েছে এবং বাণিজ্য সম্মেলনের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এগুলি মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক অভিযোগ; এই বক্তব্যের সঙ্গে কোনও তদন্তের চূড়ান্ত ফল বা আদালতের সিদ্ধান্তের উল্লেখ করা হয়নি।
শিল্পের পাশাপাশি কর্মসংস্থানকেও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন শুভেন্দু। লক্ষ্মীপুজোর শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, যুবক-যুবতীদের কাজের সুযোগ বৃদ্ধি, পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরা এবং কৃষকদের উন্নতির কথা উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার একাধিক কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। যুবক-যুবতীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন আইআইটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ চলছে বলেও তিনি জানান। আদানি-সহ বড় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
রামনগরে যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোয় পদপিষ্ট হয়ে মৃত কল্পনা জানার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পরিবারের হাতে সরকারি সাহায্য তুলে দেওয়ার পাশাপাশি, পরিবারের দুই শিশুর অভিভাবক হিসেবে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। বাকি দুই মৃত ব্যক্তি ভিন্রাজ্যের বাসিন্দা হওয়ায় তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই যাবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বিনিয়োগ নিয়ে শুভেন্দুর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন তাঁর সরকার রাজ্যে শিল্প টানার জন্য নতুন উদ্যোগের কথা বলছে। এর আগে সেপ্টেম্বরেও শিল্পপতিদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে শিল্পবান্ধব পরিবেশ, জমি ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত নীতির কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে রবিবারের বক্তব্যে তিনি মূলত নতুন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দাবি এবং আগের সরকারের শিল্পনীতি ও বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন নিয়ে তাঁর অভিযোগ তুলে ধরেন।



