উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়েতে (Purvanchal Expressway) দুর্ঘটনার কবলে পড়ল লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর কনভয়ের একাধিক গাড়ি। সোমবার, ২৬ অক্টোবর সুলতানপুরে আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে হালিয়াপুর থানা এলাকার কাছে এই সংঘর্ষ ঘটে। রাহুল গান্ধীর নিজের গাড়ি অবশ্য দুর্ঘটনার কবলে পড়েনি। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, কনভয়ের পিছনে থাকা গাড়িগুলির মধ্যে ধাক্কা লাগে। কয়েক জন আহত হয়েছেন বলে খবর, তবে গুরুতর আঘাতের কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।
সোমবার সকালে লখনউয়ের চৌধরী চরণ সিংহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন রাহুল গান্ধী। সেখান থেকে সুলতানপুরের বিশেষ সাংসদ-বিধায়ক আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। তাঁর সঙ্গে কনভয়ে ছিলেন নিরাপত্তাকর্মী ও কংগ্রেস নেতারা। সেই যাত্রাপথেই পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ের হালিয়াপুর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, রাহুলের গাড়ির পিছনে থাকা একাধিক গাড়ি পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। একটি সূত্রের দাবি, একটি অ্যাম্বুল্যান্সকে ঘিরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কনভয়ের পিছনে থাকা কংগ্রেস নেতাদের একটি ব্যক্তিগত গাড়ির চালক আচমকা ব্রেক কষায় পরপর গাড়িগুলির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে বিভিন্ন রিপোর্টে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
রাহুল গান্ধী নিরাপদ রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় কংগ্রেস কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীদের কয়েক জন আহত হয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে আঘাতের প্রকৃতি এবং আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত সরকারি তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার পর কনভয় ফের সুলতানপুরের দিকে যাত্রা শুরু করে।
এই সফরের পিছনে রয়েছে ২০১৮ সালের একটি মানহানির মামলা। তৎকালীন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে (Amit Shah) নিয়ে কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনের আগে বেঙ্গালুরুর একটি সভায় রাহুল গান্ধীর কথিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মামলাটি দায়ের হয়েছিল। সুলতানপুরের স্থানীয় বিজেপি নেতা বিজয় মিশ্র ২০১৮ সালের ৪ অগস্ট অভিযোগ দায়ের করেন।
সেই মামলার শুনানি ও রায় ঘোষণার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতেই সোমবার আদালতে যাওয়ার কথা ছিল রাহুলের। মামলাটি সুলতানপুরের বিশেষ সাংসদ-বিধায়ক আদালতে বিচারাধীন। আদালতের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
রাহুল গান্ধীর কনভয়ের দুর্ঘটনা নিয়ে প্রাথমিক তথ্য সামনে এলেও, ঠিক কতগুলি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আহতের চূড়ান্ত সংখ্যা কত এবং সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ কী—তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বিবৃতির অপেক্ষা রয়েছে।



