জোড়াফুল প্রতীকের মালিকানা নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে নতুন অভিযোগ সামনে আনলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার জন্য দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। সোমবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে এই অভিযোগ করেন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা।
ঋতব্রতর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের দলের কর্মীরা নথি নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর সোমবার সকালে তাঁদের ট্রাক আটকে নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনার পিছনে কালীঘাট শিবিরের হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে তাঁর এই দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
জোড়াফুল প্রতীকের মালিকানা নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে চলা বিরোধের মধ্যেই এই অভিযোগ সামনে এল। বিষয়টি নিয়ে কালীঘাট শিবিরের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
কী অভিযোগ করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়?
নিজের এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া পোস্টে ঋতব্রত দাবি করেন, কালীঘাট শিবির রবিবার, ২৫ অক্টোবর রাতে চার্টার্ড বিমানে নিজেদের নথিপত্র দিল্লিতে পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা শনিবার, ২৪ অক্টোবর সড়কপথে নথি নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন।
তাঁর অভিযোগ, সোমবার সকালে দিল্লিগামী ট্রাকটি আটকানোর চেষ্টা হয় এবং নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে দলের কর্মীরা সেই চেষ্টা রুখে দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
ঘটনাটিকে রাজনৈতিক কটাক্ষের সুরে তুলে ধরে ঋতব্রত বলেন, “চার্টার্ড সংস্কৃতি ও তৃণমূল স্তরের মধ্যে একটা ছোটখাটো যুদ্ধ হয়ে গেল। সবসময় গায়ের জোরে সবকিছু লুটের চেষ্টা সফল হয় না।”
তবে ট্রাক আটকানোর চেষ্টার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, কোথায় ঘটনাটি ঘটেছে এবং এ বিষয়ে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
জোড়াফুল প্রতীকের মালিকানা নিয়ে বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া নথিপত্র। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার, ২৬ অক্টোবর কমিশনে তথ্য জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। দুই শিবিরই নিজেদের দাবির সমর্থনে নথি জমা দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে কোনও শিবিরকে প্রতীকের চূড়ান্ত মালিক হিসেবে নির্বাচন কমিশন স্বীকৃতি দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এই প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য নেই। কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতীকের মালিকানা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
দুই শিবিরের বিরোধে নতুন মাত্রা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিভাজনের পর প্রতীক নিয়ে বিরোধ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই শিবিরের মধ্যে জোড়াফুল প্রতীকের দাবি ঘিরে চলা টানাপড়েনের মধ্যেই নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগ নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের জবাবে কালীঘাট শিবিরের বক্তব্য সামনে এলে ঘটনার বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি, নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার দাবির সমর্থনে কোনও প্রমাণ বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ্যে আসে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।
এখনও পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে: নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের ভিত্তিতে সামনে এসেছে। অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা, অভিযুক্তদের পরিচয় এবং ঘটনার পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।



