মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে নতুন মামলা করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মামলায় নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীকেও যুক্ত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে শুনানি হতে পারে বলেও উল্লেখ রয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট মামলার নথি এবং শুনানির তারিখ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে একাধিক আবেদন জমা পড়েছে। কমিশনের অন্য দুই সদস্যের আপত্তি উপেক্ষা করে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে আবেদনকারীদের অভিযোগ। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন বিতর্ক?
জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের অন্যতম কারণ নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের আগস্টের মধ্যে এসআইআর-সহ বিভিন্ন বিষয়ে নেওয়া প্রায় ১৪টি সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার আপত্তি জানিয়েছিলেন।
এই প্রতিবেদন সামনে আসার পরে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়। আবেদনকারীদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন একটি বহুসদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আইন ও নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে চলা প্রয়োজন।
৫ অক্টোবরের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল। আদালত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির জবাব চেয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ নিয়েও পৃথক আইনি চ্যালেঞ্জ
শুধু সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নয়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য দুই কমিশনারের নিয়োগের বৈধতা নিয়েও সুপ্রিম কোর্টে পৃথক আবেদন জমা পড়েছে।
৮ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুরি পায়ালা নামে এক আবেদনকারী জ্ঞানেশ কুমার, সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশীর নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
আবেদনকারীর দাবি, নির্বাচন কমিশনারের পদে নিয়োগের জন্য প্রতিটি শূন্যপদের বিপরীতে পাঁচজনের নামের প্যানেল তৈরি করার কথা থাকলেও ২০২৪ সালে দুটি শূন্যপদের জন্য ছয়টি নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। এই যুক্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এগুলি আবেদনকারীর বক্তব্য; আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
বিরোধী শিবিরের অবস্থান কী?
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলির একাংশও সরব হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়া, ভোটার তালিকার সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আইনি পদক্ষেপের পথে হেঁটেছে।
আপনার দেওয়া প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনও এবার পৃথকভাবে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। পাশাপাশি, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র নেতারাও জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ ও কমিশনের কাজের পদ্ধতি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে দোলা সেনের মামলাটি অন্য আবেদনগুলির সঙ্গে একত্রে শুনানি হবে কি না, তা নির্দিষ্ট মামলার নথি ছাড়া নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপে
জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে নিয়োগ সংক্রান্ত প্রশ্ন এবং এসআইআর নিয়ে ওঠা অভিযোগ—দুটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। নিয়োগের বৈধতা নিয়ে করা আবেদন এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে করা মামলার আইনি প্রশ্ন এক নয়।
আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য ও নথি খতিয়ে দেখার পরই অভিযোগগুলির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাই দোলা সেনের নামে দায়ের হওয়া মামলার শুনানির দিন, মামলার নম্বর এবং আবেদনে চাওয়া প্রতিকারের বিষয়টি নিশ্চিত হলে এই আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী দিক আরও স্পষ্ট হবে।



