ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে দেশজুড়ে প্রচারাভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। দুর্গাপুজো ও দশেরা উৎসব শেষ হওয়ার পর বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দিতে সংগঠিতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে পদ্ম শিবিরের। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্লক, জেলা ও শহরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে সভা, মিছিল এবং প্রচার কর্মসূচি আয়োজন করা হতে পারে।
প্রদত্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজয়া দশমীর পর দিল্লিতে দলের বিভিন্ন রাজ্যের সভাপতিদের নিয়ে বৈঠক করবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। সেই বৈঠকেই এসআইআর নিয়ে দলের পাল্টা প্রচারের রূপরেখা চূড়ান্ত হতে পারে। কেন্দ্রীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বি এল সন্তোষও বৈঠকে বিভিন্ন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক নেতাদের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
তবে বৈঠকের চূড়ান্ত তারিখ, অংশগ্রহণকারীদের তালিকা এবং কর্মসূচির বিস্তারিত সূচি সম্পর্কে এই প্রতিবেদনে কোনও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির উল্লেখ নেই।
নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলি একাধিক অভিযোগ তুলেছে। তাদের বক্তব্য, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় অনিয়ম হতে পারে। প্রদত্ত প্রতিবেদনে বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ হিসেবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলার কথা বলা হয়েছে।
কংগ্রেস ও বাম দলগুলি এই ইস্যুতে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। একই বিষয়ে সরব হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টিও। বাম ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলির আন্দোলনের কথাও উঠে এসেছে।
তবে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখা যায় না। নির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথি, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়ার তথ্য প্রয়োজন। প্রদত্ত প্রতিবেদনে সেই যাচাইয়ের বিস্তারিত নেই।
বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, উৎসবের মরসুম শেষ হওয়ার পর দলের সাংগঠনিক নেতৃত্বকে এক জায়গায় এনে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হতে পারে। রাজ্য সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যে কীভাবে প্রচার চালানো হবে, তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
বিভিন্ন রাজ্যের ব্লক, জেলা ও শহরাঞ্চলে পৃথক কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রীরাও এই প্রচারে অংশ নিতে পারেন। তবে কোন রাজ্যে কবে সভা বা মিছিল হবে, কিংবা কোন নেতাকে কোথায় দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য এখনও এই প্রতিবেদনে নেই।
এই কর্মসূচির লক্ষ্য হবে এসআইআর নিয়ে বিজেপির অবস্থান মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং বিরোধীদের প্রচারের জবাব দেওয়া। অর্থাৎ, বিষয়টি শুধু সংসদীয় বা সাংগঠনিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় স্তরেও রাজনৈতিক প্রচারের অংশ করতে চাইছে দলটি বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে এখন উৎসবের পরিবেশ। পুজো শেষ হওয়ার পর বিজয়ার সময় থেকেই রাজনৈতিক দলগুলির সাংগঠনিক কাজকর্মে গতি আসতে পারে। বিজেপির প্রস্তাবিত দেশজোড়া কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে বাংলাতেও ব্লক ও জেলা স্তরে প্রচার চালানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তবে বাংলার জন্য আলাদা কর্মসূচি, নির্দিষ্ট নেতাদের দায়িত্ব কিংবা সভা-মিছিলের সূচি সম্পর্কে প্রদত্ত প্রতিবেদনে কোনও চূড়ান্ত তথ্য নেই। তাই রাজ্যে ঠিক কী ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এসআইআর নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা, সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ভোটারদের অধিকার। এই বিষয়ে রাজনৈতিক প্রচারের পাশাপাশি সরকারি তথ্য ও যাচাইযোগ্য নথির গুরুত্বও রয়েছে। বিজেপি কী যুক্তি সামনে রেখে বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দেয়, তা পরবর্তী কর্মসূচির মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।
এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদ এবং বিজেপির পাল্টা প্রচারের প্রস্তুতি নির্বাচন ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্ককে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে। বিজয়ার পর দিল্লির বৈঠক হলে সেখান থেকে প্রচারের সময়সূচি, সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং রাজ্যভিত্তিক কর্মসূচি সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
আপাতত বিজেপির পরিকল্পনা হিসেবে দেশজুড়ে প্রচারের কথা উঠে এসেছে। তবে চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট তারিখ, স্থান বা অংশগ্রহণকারীদের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যের জন্য দলের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষা করতে হবে।




