পুজোয় CPIM-এর বইয়ের স্টল রুখতে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ, ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ রাজ্য!

বনগাঁয় দুর্গাপুজোর সময় সিপিএমের বইয়ের স্টল বসানো নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছে রাজ্য। জায়গাটি পূর্ত দফতরের অধীন, তাই পুলিশের কাছে রিপোর্ট চাওয়ার এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সরকার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দুর্গাপুজোয় বনগাঁয় সিপিএমের (CPIM) বইয়ের স্টল বসানো নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হল। স্টল ঘিরে বিতর্কে পুলিশের কাছে রিপোর্ট চাওয়ার সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের যুক্তি, যে জায়গায় স্টল বসানোর কথা, সেটি পূর্ত দফতরের অধীন। ফলে ওই বিষয়ে পুলিশের কাছে রিপোর্ট চাওয়ার এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য।

উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় একটি পুজোমণ্ডপের সামনে বইয়ের স্টল বসাতে চায় সিপিএম। দলটির দাবি, প্রতি বছর দুর্গাপুজোর সময়ে ওই জায়গায় স্টল বসানো হয়। কিন্তু এ বার অনুমতি না মেলায় আদালতের দ্বারস্থ হতে হয় তাদের। অভিযোগ, সিপিএম অনুমতি না পেলেও অন্যদের সেখানে বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। রাজনৈতিক দলের বইয়ের স্টল বসানোর ক্ষেত্রে আপত্তির কারণ কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। বিরোধী রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর যাতে দমিয়ে দেওয়া না হয়, সে বিষয়েও নজর রাখার কথা বলেন তিনি।

এর পরেই ওই এলাকায় কারা বইয়ের স্টল বসাচ্ছে এবং তাদের অনুমতি রয়েছে কি না, তা জানতে পুলিশকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধেই এবার আপিল করেছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের বক্তব্য, মামলাটি শোনার ক্ষেত্রে সিঙ্গল বেঞ্চের এক্তিয়ার নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।

রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎনাথ মিত্র আদালতে জানান, স্টল বসানোর প্রস্তাবিত জায়গাটি পূর্ত দফতরের অধীন। অথচ সিপিএম ওই দফতরের কাছে অনুমতি চায়নি; তারা আবেদন জানিয়েছে মহকুমাশাসকের কাছে। রাজ্যের যুক্তি, বিষয়টি পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা বা অতিসক্রিয়তা সংক্রান্ত নয়। তাই হাই কোর্টের নির্ধারিত রোস্টার অনুযায়ী এই মামলা বিচারপতি ভট্টাচার্যের বেঞ্চে শোনার কথা নয়।

বুধবার রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর বক্তব্য, জায়গাটি পূর্ত দফতরের হলেও সিঙ্গল বেঞ্চ সেই দফতরের কাছে রিপোর্ট না চেয়ে পুলিশের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে। এরপর প্রধান বিচারপতি মামলা দায়েরের অনুমতি দেন।

প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চে বৃহস্পতিবার মামলাটির শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিপিএমের বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি, জায়গাটির নিয়ন্ত্রণ এবং সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশের বৈধতা—এই তিনটি বিষয়ই পরবর্তী শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Advertisementspot_img

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর