ভোটার তালিকায় ‘রাম নে যাদব কো মারা’! উত্তরপ্রদেশে বিতর্ক, পীলীভীতে অপসারিত দুই ইআরও

অনলাইন ব্যবস্থায় নামের ভুল অনুবাদ থেকে পীলীভীতে ভোটার তথ্য সংশোধনের অনিয়ম—উত্তরপ্রদেশে নির্বাচনী তালিকার নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন। ১৫৮টি ভুল এন্ট্রির কথা জানিয়েছে নির্বাচন দফতর, পীলীভীতে দুই ERO-র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠল দুই পৃথক ঘটনায়। বিধান পরিষদের স্নাতক নির্বাচনী কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় কারও নাম ‘রাম নে যাদব কো মারা’, আবার কারও বাবার নাম ‘বি.কম’! প্রশাসনের ব্যাখ্যা, অনলাইনে নাম নথিভুক্ত করার সময় ইংরেজি থেকে হিন্দিতে রূপান্তরের প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে এমন অস্বাভাবিক এন্ট্রি তৈরি হয়েছে। অন্য দিকে, পীলীভীতে ভোটারদের তথ্য বদলানোর ঘটনায় তদন্তের পর দুই ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে (ERO) দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে এবং এক কম্পিউটার অপারেটরকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এই দুই ঘটনা ভোটার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া, তথ্য যাচাই এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় নজরদারি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবদীপ রিণওয়া জানিয়েছেন, রাজ্যে প্রথমবার স্নাতক ও শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রের ভোটার তালিকা তৈরির জন্য অনলাইন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় আবেদন জমা, অনুমোদন, বাতিল, একই ভোটারের একাধিক এন্ট্রি শনাক্ত করা এবং তালিকা ডাউনলোডের মতো একাধিক সুবিধা রয়েছে। নির্বাচন দফতরের আইটি দল প্রায় চার মাসে এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছিল।

প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ইংরেজিতে টাইপ করা নাম হিন্দিতে রূপান্তরের সময় সফটওয়্যার শব্দের উচ্চারণ ধরে লেখার বদলে তার অর্থ অনুবাদ করে ফেলে। ‘Ramhit Yadav’ নামটি ইংরেজিতে ভুল করে ‘Ram hit Yadav’ লেখা হলে সফটওয়্যার সেটিকে ‘রাম নে যাদব কো মারা’ অর্থাৎ ‘রাম যাদবকে মেরেছে’ হিসেবে রূপান্তর করে। অন্য একটি এন্ট্রিতে বাবার নামের জায়গায় ‘B.Com’ থাকার ঘটনাকে মানবিক ভুল বা কর্মীদের গাফিলতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের হিসাব অনুযায়ী, মোট ১৪ লক্ষ ৮১ হাজার ৩১০টি ভোটার এন্ট্রির মধ্যে ১৫৮টিতে নাম বা আত্মীয়ের পরিচয় সংক্রান্ত ভুল পাওয়া গিয়েছে। সংখ্যাটি মোট এন্ট্রির ০.০১ শতাংশেরও কম। তবে এত অস্বাভাবিক তথ্য কী ভাবে যাচাইয়ের একাধিক ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত তালিকায় থেকে গেল, তা নিয়ে প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।

ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচনী নথিতে ভুল থাকলেও কোনও যোগ্য ভোটার যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে জেলাশাসকদের সতর্ক করেছে নির্বাচন দফতর। শুক্রবার উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের ১১টি স্নাতক ও শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিন। এই পরিস্থিতিতে তালিকার ত্রুটি সংশোধন এবং ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পীলীভীতের ঘটনায় অভিযোগের গুরুত্ব আরও বেশি। উত্তরপ্রদেশ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি দাবি করেছিল, পীলীভীত সদর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় বহু মানুষের নাম ও অন্যান্য তথ্য বদলে গিয়েছে। দলের অভিযোগ ছিল, কিছু ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় বসবাস করেন না, এমন ব্যক্তিদের নামও তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সব তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে নির্বাচন দফতরের তদন্তে নথিভুক্তিকরণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ মে থেকে ২৯ অগস্টের মধ্যে এক কম্পিউটার অপারেটর ভোটারদের তথ্য সংশোধনের জন্য মোট ১৩,৭৭৯টি ফর্ম-৮ জমা করেছিলেন। এর মধ্যে ১০,৪৭০টি আবেদন অনুমোদিত এবং ৩,৩০৯টি বাতিল হয়। তদন্তে সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্র ও সহায়ক নথি দফতরে পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। এর পরেই প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হয়।

পীলীভীতের জেলাশাসক অলোক কুমারের বক্তব্য অনুযায়ী, এসডিএম পদমর্যাদার দুই ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার ময়ঙ্ক গোস্বামী ও হেমন্ত চৌধরীকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। কম্পিউটার অপারেটর অনিল কুমারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

দুটি ঘটনার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ইলাহাবাদ-ঝাঁসী কেন্দ্রে নামের অস্বাভাবিক এন্ট্রির ক্ষেত্রে প্রশাসন প্রযুক্তিগত ও মানবিক ভুলের কথা বলছে। পীলীভীতে আবার ভোটারদের তথ্য সংশোধনের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নথি না পাওয়ার বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে। তবে উভয় ক্ষেত্রেই ভোটার তালিকার তথ্য যাচাই এবং ভুল শনাক্ত করার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী তালিকায় ভুল থাকলে তার দায় নির্ধারণের পাশাপাশি সংশোধন কত দ্রুত হচ্ছে এবং কোনও বৈধ ভোটার সমস্যায় পড়ছেন কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর