পুজো শেষ হতেই কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোট ঘিরে প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি। দুই পুরনিগমেই বোর্ড গঠনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, কলকাতা ও হাওড়া—দুই জায়গাতেই স্বচ্ছন্দ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পুরবোর্ড গঠন করবে গেরুয়া শিবির। একই সঙ্গে কলকাতার সম্ভাব্য মেয়রকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য, দেখতে সুন্দর হবেন কি না জানেন না, তবে শহরবাসী কাজের মেয়র পাবেন।
শুক্রবার পুরভোটের রণকৌশল নিয়ে দলের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই দাবি করেন শমীক। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি একক শক্তিতেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের মানুষ দলকে সমর্থন করেছেন। সেই ফলের ভিত্তিতেই পুরনির্বাচনেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। [কলকাতা-হাওড়া পুরভোটে বিজেপির টিকিট কারা পাবেন? তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরদের নিয়ে কী বার্তা শাসক দলের]
শমীকের কথায়, কলকাতায় বিজেপি আগেও আশানুরূপ ফল করেছে। হাওড়ার মানুষের মধ্যেও দলের প্রতি আস্থা রয়েছে বলে তাঁর দাবি। সেই কারণেই দুই পুরনিগমেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বোর্ড গঠনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি নেতৃত্ব। তবে এই দাবি এখনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রত্যাশা; পুরভোটের ফল নির্ধারিত হবে ভোটের মাধ্যমেই।
বিজেপির রাজ্য সভাপতির বক্তব্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই ২০২৬ সালের নির্বাচনে লড়েছে দল। তাঁর দাবি, সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিজেপি অন্য কোনও দলের দয়ায় ক্ষমতায় আসেনি, মানুষই দলকে ভরসা করেছেন।
রাজ্য সরকারের কাজকর্ম নিয়েও এদিন ইতিবাচক মন্তব্য করেন শমীক। তাঁর বক্তব্য, গত পাঁচ মাসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংকল্পপত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণের চেষ্টা করেছেন। সরকার ভালো কাজ করেছে এবং রাজ্যের পাশাপাশি কলকাতার মানুষের মধ্যেও আস্থা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পুরভোটের প্রচারে এই সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতাকেই বিজেপি সামনে রাখতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
অন্যদিকে, কলকাতা ও হাওড়ার প্রার্থী বাছাই নিয়েও দলের প্রস্তুতি চলছে। কোন ওয়ার্ডে কাকে প্রার্থী করা হবে, পুরনো কর্মীদের কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের জায়গা দেওয়া হবে কি না—এই প্রশ্নগুলি ঘিরে দলের অন্দরে আলোচনা রয়েছে। বিজেপির একাংশ দীর্ঘদিনের দলীয় কর্মীদের প্রার্থী করার পক্ষে সওয়াল করছেন। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনও নাম নিশ্চিত নয়।
এদিকে, বিজেপি নেত্রী নাজিয়া ইলাহি খানের করা প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ নিয়েও এদিন মুখ খোলেন শমীক ভট্টাচার্য। নাজিয়ার দাবি, পাকিস্তানের নম্বর থেকে আসা ফোন ও বার্তায় তাঁকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে নিশানা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে শমীকের বক্তব্য, হতাশা থেকে কিছু মানুষ হুমকি দিতে পারেন। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের আগ্রাসন ও সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা করে জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে রাজনীতি করলে এমন হুমকির মুখে পড়তে হতে পারে। তবে নাজিয়া ইলাহি খানের অভিযোগে হুমকিদাতাদের পরিচয় বা কোনও জঙ্গি সংগঠনের যোগ এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। অভিযোগের সত্যতা ও বার্তার উৎস নির্ধারণে তদন্তই গুরুত্বপূর্ণ।
শুভেন্দু অধিকারীও নাজিয়ার অভিযোগের পর তাঁর নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে শুক্রবারের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগে নাজিয়ার নিরাপত্তায় একজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন, এবার তা বাড়িয়ে তিনজন করার কথা বলা হয়েছে। তবে হুমকির উৎস ও বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্তের ভিত্তিতেই নেওয়া সম্ভব।
সব মিলিয়ে, কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটকে সামনে রেখে বিজেপি নেতৃত্বের আত্মবিশ্বাসী বার্তা স্পষ্ট। একদিকে দুই পুরনিগমে বোর্ড গঠনের দাবি, অন্যদিকে সম্ভাব্য মেয়রকে নিয়ে শমীকের মন্তব্য—দুই বিষয়ই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। তবে ভোটের দিনক্ষণ, প্রার্থী তালিকা এবং নির্বাচনী ফলের আগে বিজেপির এই প্রত্যাশা বাস্তবে কতটা পূরণ হয়, তার উত্তর মিলবে পুরভোটের পরেই।



