সপ্তমীর সন্ধ্যায় ফুটবল মাঠে লাল-হলুদের দুরন্ত বোধন! আইএসএল অভিযান শুরু করেই চার্চিল ব্রাদার্সকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল। গোয়ার ফতোরদা স্টেডিয়ামে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলল আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দল। দানি র্যামিরেজের দুরন্ত ফ্রিকিক, এডমুন্ডের গোল এবং শেষ দিকে বিপিন সিংয়ের জোড়া গোলে বড় জয় তুলে নিল লাল-হলুদ।
এএফসি প্রতিযোগিতায় আল-শোর্তার বিরুদ্ধে দু’বার এগিয়ে থেকেও হারতে হয়েছিল ইস্টবেঙ্গলকে। ফলে আইএসএলের প্রথম ম্যাচে রক্ষণ সামলে এগোনোই ছিল কোচ হাবাসের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। চার্চিল ব্রাদার্সকে প্রতিপক্ষ হিসেবে হালকা করে দেখেননি তিনি। কিন্তু মাঠে নেমে গোলের পর গোল করে বুঝিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল, নতুন অভিযান শুরু করার জন্য তারা তৈরি।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই র্যামিরেজের জাদু
ম্যাচ শুরু হতে না হতেই এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয় মিনিটে বক্সের সামনে ফ্রিকিক পায় লাল-হলুদ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন দানি র্যামিরেজ। শুরুতেই গোল হজম করে চাপে পড়ে যায় চার্চিল ব্রাদার্স। চার মিনিটের মাথায় হলুদ কার্ড দেখেন গৌরব বরা।
তবে গোল খেয়েও লড়াই ছাড়েনি চার্চিল। ১৭ মিনিটে ওকোলির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফলে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয় তাদের। এরপর মাঝমাঠে রাশিদ ও এডমুন্ডের বোঝাপড়ায় একের পর এক আক্রমণ গড়ে তোলে ইস্টবেঙ্গল।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায় লাল-হলুদ। ৪৫ মিনিটের কাছাকাছি ডেভিড হামারের বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকে গোল করেন এডমুন্ড। বিরতিতে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকে ইস্টবেঙ্গল।
দ্বিতীয়ার্ধে লড়াই, শেষ দিকে বিপিনের জোড়া গোল
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা করে ইস্টবেঙ্গল। র্যামিরেজের শট আটকে দেন চার্চিলের গোলরক্ষক সায়াদ কাদির। দূর থেকে এডমুন্ড লালরিন্ডিকার শটও লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি।
অন্যদিকে, ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যায় চার্চিল। ৬৫ মিনিটে বক্সের মধ্যে বল পেয়েও শট নিতে পারেননি লেকে। ইস্টবেঙ্গলের কাছেও গোলের সুযোগ আসে। ৭১ মিনিটে দ্রুত প্রতি-আক্রমণে বক্সে ঢুকে এডমুন্ড বল বাড়ান বিষ্ণুকে। কিন্তু কাছ থেকে সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।
তবে ম্যাচের শেষ দিকে ফের আক্রমণের ঝড় তোলে ইস্টবেঙ্গল। ৮৫ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ-পায়ের দুরন্ত শটে গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন বিপিন সিং। তাঁর শটের সামনে কার্যত অসহায় দেখায় চার্চিলের রক্ষণকে।
৯০ মিনিটে ফের গোল করেন বিপিন। ফলে ৪-০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে ইস্টবেঙ্গল। শেষ মুহূর্তের জোড়া গোলে নিজের পারফরম্যান্সকে স্মরণীয় করে রাখলেন তিনি।
প্রস্তুতির ছাপ ইস্টবেঙ্গলের খেলায়
প্রস্তুতি পর্বে ডুরান্ড কাপ ও আইএফএ শিল্ডে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচে তাদের আক্রমণের গতি, মাঝমাঠের বোঝাপড়া এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে, তুলনায় সীমিত প্রস্তুতি নিয়েও চার্চিল লড়াই চালিয়েছে। কিন্তু গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল লাল-হলুদই।
আইএসএলের প্রথম ম্যাচে চার গোলের জয় নিঃসন্দেহে ইস্টবেঙ্গলকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। তবে দীর্ঘ মরশুমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং রক্ষণকে আরও সংগঠিত করাই হবে হাবাসের দলের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ।
সপ্তমীর দিন চার্চিলের মাঠে চার্চিলকে হারিয়ে ইস্টবেঙ্গলের আইএসএল অভিযান শুরু হল দুরন্ত ছন্দে। র্যামিরেজ, এডমুন্ড ও বিপিনের গোলের সৌজন্যে লাল-হলুদ সমর্থকদের উৎসবের আনন্দ আরও বাড়ল।




