চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর দুর্গাপুজোয় ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে পদক্ষেপ নিল নবান্ন। কলকাতার পুজোর দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন সাত আইপিএস অফিসারকে ফের পুজোর কাজে আনা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন মুরলীধর শর্মা, রূপেশ কুমার, প্রিয়ব্রত রায়, দীপক সরকার, মিরাজ খালিদ, সৌম্য রায় এবং তরুণ হালদার।
চোরবাগান বিপর্যয়ের পর বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো, প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়গুলি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ পুলিশ আধিকারিকদের পুজোর দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালিকায় কোন সাত আইপিএস অফিসার?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন শাখায় কর্মরত ছিলেন মুরলীধর শর্মা। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) থেকে পুজোর দায়িত্বে আনা হয়েছে রূপেশ কুমারকে। রাজ্য ট্রাফিক পুলিশের আইজি পদে ছিলেন মিরাজ খালিদ এবং ওই শাখার এসপি পদে ছিলেন প্রিয়ব্রত রায়।
অন্যদিকে, সিআইডি থেকে পুজোর কাজে ফেরানো হয়েছে দীপক সরকার ও তরুণ হালদারকে। সৌম্য রায় আইজির স্পেশাল সুপার পদে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এই সাত আধিকারিকের কলকাতার দুর্গাপুজোয় ভিড় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে তাঁদের দায়িত্বের নির্দিষ্ট এলাকা, কাজের পরিধি এবং মোতায়েনের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত সরকারি নির্দেশ প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
চোরবাগান বিপর্যয়ের পর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে বিপুল ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ির পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। আহত হয়েছেন বহু দর্শনার্থী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরু গলিতে একসঙ্গে প্রচুর মানুষের প্রবেশ, বৃষ্টি এবং মণ্ডপের প্রবেশ ও বেরোনোর পথে চাপ পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। বৃষ্টির সময় একদল দর্শনার্থী মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন, অন্যদিকে অনেকে বাইরে বেরোতে চাইছিলেন না বলে দাবি করা হয়েছে। এর জেরে হুড়োহুড়ি ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার কারণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের বিষয়। পুজো উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি পুলিশি ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা তদন্তের ফল ও সরকারি বক্তব্যের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।
তদন্তের পাশাপাশি বাড়তি নজর ভিড় নিয়ন্ত্রণে
চোরবাগান-কাণ্ডের পর তদন্তের পাশাপাশি পুজোর বাকি দিনগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বড় মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের প্রবেশের সময় ভিড়ের চাপ সামলানো, বিকল্প বেরোনোর পথ খোলা রাখা, বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করা—সবকটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
অভিজ্ঞ আইপিএস আধিকারিকদের পুজোর দায়িত্বে ফেরানোর খবর সেই প্রেক্ষাপটেই তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এই পদক্ষেপের ফলে ভিড় নিয়ন্ত্রণে কী পরিবর্তন হচ্ছে, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব বণ্টন, পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন এবং আয়োজকদের সঙ্গে সমন্বয়ের উপর।
চোরবাগান বিপর্যয়ের পর সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রত্যাশা, পুজোর আনন্দ যেন আর কোনও পরিবারের কাছে শোকের কারণ হয়ে না ওঠে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তার উত্তর মিলবে আগামী দিনগুলির পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপে।




