প্রয়াত জনপ্রিয় রন্ধনশিল্পী শেফ দামু (Chef Damu)। রবিবার, ২৫ অক্টোবর চেন্নাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কে. দামোদরন (K. Damodharan)। বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। দক্ষিণ ভারতের রান্নার ঐতিহ্যকে টেলিভিশনের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া এই শিল্পী ২০২৫ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। রান্নার জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘কুকু উইথ কোমালি’ (Cooku with Comali)-এর বিচারক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে রন্ধনশিল্পী ও টেলিভিশন জগতে।
গত কয়েক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন শেফ দামু। চিকিৎসার জন্য তাঁকে চেন্নাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে তামিল সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে তাঁর অসুস্থতার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
রান্নাঘর থেকে টেলিভিশনের পর্দা—দীর্ঘ পথচলা: শেফ দামুর পরিচিতি শুধু একজন দক্ষ রাঁধুনি হিসেবে নয়, বরং রন্ধনশিল্পকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবেও। পেশাদার রান্নার জগতে কাজ শুরু করার পর ধীরে ধীরে তিনি নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পরিচিতি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে টেলিভিশনের বিভিন্ন রান্নার অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি তাঁকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়।
বিশেষ করে ‘কুকু উইথ কোমালি’ অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। রান্নার প্রতিযোগিতার সঙ্গে হাস্যরস ও বিনোদনের মেলবন্ধন ঘটানো এই অনুষ্ঠানে প্রতিযোগীদের সঙ্গে তাঁর ব্যবহার এবং রান্না সম্পর্কে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার ধরন দর্শকদের আকৃষ্ট করেছিল। ফলে পেশাদার রন্ধনশিল্পের বাইরেও তাঁর একটি বড় দর্শকগোষ্ঠী তৈরি হয়।
২৪ ঘণ্টায় ৬১৭ পদ রান্না করে গিনেস বিশ্বরেকর্ড: শেফ দামুর জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব তাঁর গিনেস বিশ্বরেকর্ড। ২০১০ সালে তিনি ২৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিট ১২ সেকেন্ডে মোট ৬১৭টি পদ রান্না করে রেকর্ড গড়েছিলেন। এই কৃতিত্ব তাঁর রান্নার দক্ষতা, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার ক্ষমতা এবং বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরির অভিজ্ঞতাকে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি দেয়।
তাঁর পেশাগত জীবনের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল রন্ধনশিল্প নিয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা। হোটেল ম্যানেজমেন্ট এবং ক্যাটারিং টেকনোলজিতে উচ্চশিক্ষা লাভের পর তিনি রান্নাকে কেবল পেশা হিসেবে নয়, শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবেও দেখেছিলেন। রান্নার প্রশিক্ষণ ও খাদ্যসংক্রান্ত জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
২০২৫ সালে পদ্মশ্রী সম্মান: রন্ধনশিল্পে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে শেফ দামুকে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয়া হয়। ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক সম্মানগুলির মধ্যে এই পুরস্কার তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি।
তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যবাহী রান্না, আঞ্চলিক খাদ্যসংস্কৃতি এবং বিভিন্ন ধরনের পদ তৈরির কৌশলকে বৃহত্তর দর্শকের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। টেলিভিশনের অনুষ্ঠানগুলির মাধ্যমে বহু মানুষ রান্নার নতুন কৌশল ও খাবারের বৈচিত্র সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছেন।
শেফ দামুর প্রয়াণে তাই শুধু একজন জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্বকে হারাল না তামিলনাড়ু। রন্ধনশিল্পের পেশাদার জগৎ এবং টেলিভিশনের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা এক পরিচিত মুখের বিদায় ঘটল। তাঁর গিনেস বিশ্বরেকর্ড, পদ্মশ্রী সম্মান এবং দীর্ঘ কর্মজীবন তাঁকে ভারতীয় রন্ধনশিল্পের পরিচিত ব্যক্তিত্বদের মধ্যে জায়গা করে দিয়েছে।



