নানা পাটেকরের মৃত্যুর কারণ জানাল ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

গোয়ার বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অভিনেতাকে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, হৃদ্‌যন্ত্রের প্রধান ধমনীতে রক্তের জমাট তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর কারণ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তার উত্তর মিলেছে। ৭৫ বছর বয়সি অভিনেতার হৃদ্‌যন্ত্রের প্রধান ধমনীতে রক্তের জমাট বাঁধার কারণে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। এর জেরেই তীব্র হার্ট অ্যাটাক হয় তাঁর। ১১ অক্টোবর গোয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এক প্রবীণ চিকিৎসক রিপোর্টের এই তথ্য জানান বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, নানা পাটেকরের মৃত্যু হয়েছিল অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা তীব্র হৃদ্‌পেশির রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে। এর পিছনে ছিল করোনারি আর্টারি ডিজিজ এবং হৃদ্‌যন্ত্রের প্রধান ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধা। চিকিৎসকদের রিপোর্টে মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হৃদ্‌যন্ত্রের প্রধান ধমনীতে কী হয়েছিল?

হৃদ্‌যন্ত্রের পেশিতে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছে দেয় করোনারি ধমনীগুলি। এই ধমনীর মধ্যে কোনও একটিতে রক্ত চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হলে হৃদ্‌যন্ত্রের একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায় না। দ্রুত চিকিৎসা না হলে পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

নানা পাটেকরের ক্ষেত্রে বাম প্রধান করোনারি ধমনীতে রক্তের জমাট তৈরি হয়েছিল বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে। এই ধমনী হৃদ্‌যন্ত্রের উল্লেখযোগ্য অংশে রক্ত সরবরাহ করে। ফলে সেখানে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তীব্র হৃদ্‌রোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

৮ অক্টোবর ভোরে গোয়ার ডোনা পাউলায় নিজের বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন নানা পাটেকর। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার কয়েক ঘণ্টা আগে রাত আড়াইটে নাগাদ তিনি অসুস্থ বোধ করার কথা এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে বার্তায় জানিয়েছিলেন। বুকে ব্যথা এবং শারীরিক অস্বস্তির কথাও উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।

বন্ধু আমেয় নায়েক পরে সেই বার্তা দেখতে পান এবং অভিনেতার বাড়িতে পৌঁছন। সেখানে নানা পাটেকরকে অচৈতন্য অবস্থায় দেখতে পান তিনি। এরপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর বা কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন দেওয়া হলেও তাঁকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। ৮ অক্টোবর সকালে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

অভিনেতার মৃত্যুর পর গোয়া পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। মৃত্যুর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ ধরনের মামলা নথিভুক্ত হওয়া মানেই যে মৃত্যুর পিছনে অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে, তা নয়; মৃত্যুর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্যও এমন পদক্ষেপ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে গোয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হৃদ্‌রোগজনিত কারণের কথা উঠে আসে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, হৃদ্‌যন্ত্রের প্রধান ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। চিকিৎসকেরা মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে চিহ্নিত করেছেন।

নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে শোকের ছায়া নেমে আসে। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে হিন্দি ও মারাঠি সিনেমায় একাধিক উল্লেখযোগ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর অভিনেতার শেষ সময়ের ঘটনাক্রমও আরও স্পষ্ট হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Advertisement

সদ্য প্রকাশিত