গোয়ার বাড়িতে প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৯৪ ধারায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। মৃত্যুর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এর মধ্যেই অভিনেতার শেষ কয়েক ঘণ্টার ঘটনা সামনে এনেছেন মণিপাল হাসপাতালের চিকিৎসক শেখর সালকার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অসুস্থ বোধ করায় রাত আড়াইটে নাগাদ এক বন্ধুকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন নানা। পরে ভোরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
কেন অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা?
পুলিশের নথি অনুযায়ী, গোয়ার ডোনা পাউলার ওশান পার্কের বাসভবন থেকে অচৈতন্য অবস্থায় নানা পাটেকরকে বাম্বোলিমের মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এই ঘটনার পর পানাজি পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৯৪ ধারায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন পুলিশ সাব-ইনস্পেক্টর নীতিন নায়েক। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলছে।
তবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত হওয়াকে অপরাধ বা ষড়যন্ত্রের প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। মৃত্যুর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই এই তদন্তের উদ্দেশ্য। পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনও অপরাধমূলক ঘটনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
চিকিৎসক শেখর সালকারের বয়ান অনুযায়ী, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে নানা পাটেকর এক বন্ধুকে বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছিলেন যে তিনি ভালো বোধ করছেন না। সময়টা ছিল রাত আড়াইটে নাগাদ। গভীর রাত হওয়ায় বন্ধু সেই বার্তা সঙ্গে সঙ্গে দেখতে পাননি।
পরে তিনি নানাকে ফোন করেন এবং ভোর চারটে নাগাদ অভিনেতার বাড়িতে পৌঁছন। তখন অভিনেতার শরীরে ঘাম দেখা যাচ্ছিল এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল বলে চিকিৎসকের বক্তব্য।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হয়। বাড়ির পরিচারককে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করতে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসক দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর উদ্যোগ নেয়।
চিকিৎসক শেখর সালকার জানিয়েছেন, চিকিৎসক দল অভিনেতার বাড়িতে পৌঁছনোর সময় নানা পাটেকরের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক ছিল। তাঁকে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন বা সিপিআর দেওয়া হয়।
এরপর ভোর ৪টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁকে মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালেও চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যান। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে কার্ডিয়াক ম্যাসাজ ও সিপিআর দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ভোর ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁর মৃত্যুর কথা জানানো হয়।
হাসপাতালের তরফে প্রাথমিকভাবে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়াকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।
নানা পাটেকরের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশি তদন্তের মূল লক্ষ্য হল, ঠিক কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল, তা নির্ধারণ করা। এ জন্য ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের জন্য ময়নাতদন্ত এবং পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াও তদন্তের অংশ। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনও প্রকাশিত হয়নি।
প্রবীণ অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে শোক তৈরি হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে পুলিশি তদন্ত ও চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত।



