১০ বছর পর সৌরভের সঙ্গে বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন রবি শাস্ত্রী, বললেন, ‘অন্য উদ্দেশ্য ছিল’

২০১৬ সালে ভারতীয় দলের প্রধান কোচ নির্বাচনে অনিল কুম্বলের কাছে হারতে হয়েছিল রবি শাস্ত্রীকে। সেই সিদ্ধান্ত ও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রকাশ্যে আসা মতবিরোধ নিয়ে ফের নিজের অভিজ্ঞতা জানালেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারতীয় ক্রিকেটের অন্দরমহলে ২০১৬ সালের কোচ নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক আবারও আলোচনায়। প্রায় এক দশক পর সেই ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন রবি শাস্ত্রী। ভারতীয় দলের প্রাক্তন প্রধান কোচের দাবি, ক্রিকেট ডিরেক্টরের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল বলে তাঁর মনে হয়েছিল। সেই সময় কোচ নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সংঘাতও প্রকাশ্যে এসেছিল। এত দিন পর শাস্ত্রীর মন্তব্যে পুরনো বিতর্ক ফের সামনে এল।

২০১৪ সালে ভারতীয় দলের ক্রিকেট ডিরেক্টরের দায়িত্ব পান রবি শাস্ত্রী। দলের সঙ্গে কাজ করার পর ২০১৬ সালে তাঁকে জানানো হয়, ক্রিকেট ডিরেক্টরের পদ আর রাখা হবে না। পরিবর্তে ভারতীয় দলের প্রধান কোচের পদের জন্য আবেদন করতে বলা হয় তাঁকে।

সেই সময় ভারতীয় দলের প্রধান কোচ বেছে নেওয়ার দায়িত্বে ছিল বিসিসিআইয়ের ক্রিকেট অ্যাডভাইজরি কমিটি (CAC)। এই কমিটিতে ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, সচিন তেন্ডুলকর এবং ভিভিএস লক্ষ্মণ।

শেষ পর্যন্ত শাস্ত্রীকে পিছনে ফেলে অনিল কুম্বলেকে ভারতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে বেছে নেয় কমিটি। আর এই সিদ্ধান্তের পরেই শুরু হয় বিতর্ক।

কোচ নির্বাচনের পর শাস্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, প্রধান কোচের পদের জন্য তাঁর সাক্ষাৎকারের সময় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টিকে নিজের প্রতি অসম্মান হিসেবেও দেখেছিলেন তিনি।

শাস্ত্রীর এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন সৌরভ। তিনি জানিয়েছিলেন, শাস্ত্রীর ব্যক্তিগত আক্রমণে তিনি অত্যন্ত দুঃখ পেয়েছেন। ফলে কোচ নির্বাচন ঘিরে দুই প্রাক্তন ক্রিকেটারের মতবিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে।

ভারতীয় ক্রিকেটে দুই পরিচিত ব্যক্তিত্বের এই সংঘাত দীর্ঘদিন আলোচনায় ছিল। এবার প্রায় ১০ বছর পর সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে ফের নিজের অবস্থান জানালেন শাস্ত্রী।

সাম্প্রতিক মন্তব্যে শাস্ত্রী জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে তাঁকে ক্রিকেট ডিরেক্টরের দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে প্রধান কোচের পদের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছিল। তাঁর মতে, ভারতীয় দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি নিজের সেরাটা দিয়েছিলেন। তাই তাঁকে সেই দায়িত্বে বহাল না রাখার সিদ্ধান্ত তাঁকে আঘাত করেছিল।

শাস্ত্রীর বক্তব্য, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে দায়িত্বে থাকার সুযোগ না দেওয়ার পিছনে অন্য কোনও কারণ ছিল বলে তাঁর মনে হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তাহলে স্পষ্টতই অন্য কোনও কারণ ছিল, কোনও উদ্দেশ্য ছিল—যার জন্য আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ঠিক আছে, আমি মেনে নিয়েছিলাম।”

তবে শাস্ত্রীর এই বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত উপলব্ধি। তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পিছনে কোনও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা প্রমাণিত তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়।

কোচ হওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ার পর শাস্ত্রী আবার ধারাভাষ্যের জগতে ফিরে যান। তাঁর কথায়, সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে অনেক কিছু শিখিয়েছিল। ক্রিকেট থেকে কিছুটা দূরে থাকার ফলে আধুনিক প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মানসিকতা এবং খেলাটির পরিবর্তন বোঝার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।

শাস্ত্রী মনে করেন, ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের পর আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসার যে ধারণা রয়েছে, তাঁর ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আবার ভারতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ আসে তাঁর সামনে।

২০১৭ সালে ভারতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন রবি শাস্ত্রী। ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার বছর এই পদে ছিলেন তিনি। তাঁর কোচিংয়ের সময় ভারতীয় দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করে।

২০১৬ সালের সেই কোচ নির্বাচন তাই শাস্ত্রীর কেরিয়ারের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে রয়েছে। একদিকে অনিল কুম্বলের নিয়োগ, অন্যদিকে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রকাশ্যে মতবিরোধ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি ভারতীয় ক্রিকেটের আলোচিত বিতর্কগুলির মধ্যে জায়গা করে নেয়।

প্রায় এক দশক পর শাস্ত্রীর মন্তব্যে সেই পুরনো অধ্যায় ফের সামনে এসেছে। তবে তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি সেই সময়ের সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থানও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন