নন্দীগ্রামে দশম রাউন্ডেই ৮৫ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে বিজেপি, রেজিনগরেও ব্যবধান ৭০ হাজার ছাড়াল

নন্দীগ্রামে দশম রাউন্ডের গণনা শেষে বিজেপি ৮৫ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে। রেজিনগরেও ব্যবধান ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। দুই কেন্দ্রেই চূড়ান্ত ফলের জন্য অপেক্ষা চলছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগণনায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। দশম রাউন্ডের গণনা শেষে নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভোটের ব্যবধান ৮৫ হাজার ছাড়িয়েছে। অন্য দিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগরেও বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার প্রায় ৭০ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন বলে গণনার প্রাথমিক প্রবণতায় উঠে এসেছে। দুই কেন্দ্রেই এই ব্যবধান উপনির্বাচনের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে গণনা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রবণতাকে চূড়ান্ত ফল হিসেবে দেখা যাবে না।

নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ। তিনি শুভেন্দু অধিকারীর প্রয়াত ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের মা। এই আসনটি ছেড়ে দেওয়ার পরেই উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়েছিল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন তিনি।

নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের মিলন প্রধান। তাঁকে সমর্থন করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির। ফলে এই কেন্দ্রে বিজেপির বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকা শুধু প্রার্থীর লড়াই নয়, রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণের নিরিখেও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভোটগণনা শেষ হওয়ার আগে জয় নিশ্চিত বলে ঘোষণা করা ঠিক হবে না।

রেজিনগরেও বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রার্থী গোলাম নবি আজাদ, যিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের ছেলে। বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর ও নওদা—দুই আসনেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেওয়ায় এখানে উপনির্বাচন হয়।

রেজিনগরের লড়াইয়ে তৃণমূলের বিভাজনও গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের দুই শিবিরের পৃথক প্রার্থী ছিল। পাশাপাশি কংগ্রেস ও বাম দলগুলিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিজেপির বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বিরোধী ভোটের বিভাজন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে কেবল প্রাথমিক গণনার ব্যবধান দেখে ভোটারদের মনোভাব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়।

দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছিল ৬ অক্টোবর। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই শুক্রবার সকাল থেকে ভোটগণনা শুরু হয়। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ফলাফল রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিজেপির অবস্থান এবং বিরোধী দলগুলির সাংগঠনিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দশম রাউন্ডের পর পাওয়া প্রবণতা অনুযায়ী, নন্দীগ্রামে বিজেপির ব্যবধান ৮৫ হাজার এবং রেজিনগরে ৭০ হাজার ভোট ছাড়িয়েছে। এখন বাকি রাউন্ডের গণনা এবং নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ঘোষণাই নির্ধারণ করবে, এই দুই কেন্দ্রে শেষ পর্যন্ত কে জয়ী হচ্ছেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন