ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং বিদেশি কর্মীদের নিয়ে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাল নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of External Affairs) জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত ভারত-আমেরিকার অভিন্ন লক্ষ্য ও স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ভ্যান্সের মন্তব্যকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর’ বলেও উল্লেখ করেছে ভারত। তবে মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, PERM প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশের ফলে বর্তমানে বৈধ এইচ-১বি (H-1B) ভিসা বা সেই ভিসাধারীদের পরিবারের সদস্যদের বৈধ অবস্থান সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আটটি বড় প্রযুক্তি ও আইটি সংস্থাকে কর্মসংস্থান-ভিত্তিক গ্রিন কার্ডের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ PERM কর্মসূচি থেকে সাময়িক ভাবে স্থগিত করেছে। তালিকায় রয়েছে টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (TCS), ইনফোসিস, উইপ্রো, এইচসিএল, কগনিজ্যান্ট, ক্যাপজেমিনি, মাইক্রোসফট এবং অ্যাডোবি। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু সংস্থা নিয়মের অপব্যবহার করেছে এবং তাতে আমেরিকান কর্মীদের চাকরির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সংস্থাভিত্তিক অভিযোগের বিস্তারিত প্রমাণ প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কর্মীদের জন্য আমেরিকায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া আটকে যেতে পারে কিংবা দীর্ঘায়িত হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে PERM প্রক্রিয়ায় আবেদন করার অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁদের অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। তবে PERM-এ স্থগিতাদেশ আর এইচ-১বি ভিসা বাতিল এক বিষয় নয়—বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্যে সেই পার্থক্যই স্পষ্ট করা হয়েছে।
বিতর্কের আরেকটি কেন্দ্র জেডি ভ্যান্সের বক্তব্য। বিদেশি কর্মীদের নিয়ে তাঁর ব্যবহৃত ‘ইনডেনচার্ড সার্ভেন্টস’ বা কার্যত নিয়োগকর্তার অধীনস্থ শ্রমিকের তুলনাকে ভারত আপত্তিকর বলে মনে করেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, দক্ষ ভারতীয় পেশাদারেরা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন অর্থনীতি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাঁদের অবদানকে এ ভাবে বর্ণনা করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে ভারতের আপত্তির মূল সুর।
মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, আমেরিকান কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ভিসা ব্যবস্থার সম্ভাব্য অপব্যবহার বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের অভিযোগ, কিছু সংস্থা মার্কিন কর্মী ছাঁটাইয়ের পর বিদেশি কর্মী নিয়োগ করেছে। অন্য দিকে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে; অভিযোগগুলি প্রমাণিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার অবকাশ নেই।
PERM হল মার্কিন কর্মসংস্থান-ভিত্তিক গ্রিন কার্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সাধারণত, বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে নিয়োগের জন্য স্পনসর করার আগে নিয়োগকর্তাকে এই প্রক্রিয়ায় শ্রম-সংক্রান্ত শর্ত পূরণের অনুমোদন নিতে হয়। ফলে এই ধাপ স্থগিত হলে কর্মীর গ্রিন কার্ডের যাত্রা বিলম্বিত হতে পারে, যদিও তাঁর বর্তমান ভিসার বৈধতা আলাদা নিয়মের অধীন।
ভারতের আপত্তি তাই শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ নয়; দক্ষ কর্মীদের চলাচল, দুই দেশের প্রযুক্তি-বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং অভিবাসন নীতির বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে এসেছে। আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, PERM প্রক্রিয়ার এই স্থগিতাদেশ কত দিন চলবে এবং তদন্তের পর মার্কিন প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয়।



