কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন (Pinarayi Vijayan), তাঁর মেয়ে টি বীণা এবং জামাই তথা প্রাক্তন মন্ত্রী পি এ মহম্মদ রিয়াসের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দিল কেরল হাই কোর্ট (Kerala High Court)। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড (CMRL) ও বীণার সংস্থা এক্সালজিক সলিউশনের (Exalogic Solutions) মধ্যে আর্থিক লেনদেন ঘিরে ওঠা অভিযোগের মামলায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি এ বদরুদ্দিনের বেঞ্চ অভিযোগের তদন্তে মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমন নয়।Vij
মামলাটি মূলত বীণা বিজয়নের মালিকানাধীন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা এক্সালজিক সলিউশনস এবং কেরলের খনিজ সংস্থা CMRL-এর মধ্যে আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, বীণার সংস্থাকে এমন অর্থ দেওয়া হয়েছিল, যার বিনিময়ে যথাযথ পরিষেবা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই লেনদেনকে ঘিরে দুর্নীতি ও বেআইনি আর্থিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। অভিযোগগুলির সত্যতা অবশ্য এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
এই মামলায় নতুন মোড় আসে যখন ইডি কেরল পুলিশের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়ে পিনারাই বিজয়ন, তাঁর মেয়ে ও জামাই-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা নথিভুক্ত করার আবেদন জানায়। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্যের ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশের কাছে এফআইআর দায়েরের দাবি ওঠে। কিন্তু প্রাথমিক অনুসন্ধান করা প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে কেরল হাই কোর্টে আবেদন করেন কে এম শাহজাহান। ইডির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশকে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া যায় কি না, সেটিই ছিল মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আদালত শেষ পর্যন্ত এফআইআর নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে অভিযোগের বিষয়ে এবার পুলিশের আনুষ্ঠানিক তদন্তের পথ খুলল।
রাজনৈতিক দিক থেকেও এই মামলার গুরুত্ব রয়েছে। পিনারাই বিজয়ন কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং বর্তমানে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। তাঁর মেয়ে বীণা বিজয়নের সংস্থার সঙ্গে CMRL-এর লেনদেন নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। এর আগে বিভিন্ন তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে নতুন এফআইআর-এর নির্দেশকে আগের তদন্তের ফল বা দোষ প্রমাণের সমতুল্য হিসেবে দেখা যাবে না।
এখন নজর থাকবে, পুলিশের এফআইআরে কোন কোন ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়, তদন্তের পরিধি কতটা বিস্তৃত হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য কী হয়। আদালতের নির্দেশের পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায় প্রকাশিত হলে মামলার আইনি যুক্তি ও তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।



