দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে রেল চলাচলে বড়সড় কাটছাঁট। শনিবার, ১০ অক্টোবর ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত নিউ দিল্লি (New Delhi) ও হজরত নিজামুদ্দিন (Hazrat Nizamuddin) স্টেশনে পৌঁছনোর কথা থাকা একাধিক মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করেছে ভারতীয় রেল (Indian Railways)। এর মধ্যে রয়েছে হাওড়া-নিউ দিল্লি ও শিয়ালদহ-নিউ দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসও। ফলে দিল্লিগামী যাত্রীদের যাত্রার পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
রেলের নির্দেশ অনুযায়ী, শুক্রবার ৯ অক্টোবর দুপুর ২টোর পরে যাত্রার সূচনাস্থল থেকে ছেড়ে শনিবার ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টোর মধ্যে নিউ দিল্লি বা হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছনোর কথা ছিল যে মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনগুলির, সেগুলি যাত্রার শুরুতেই বাতিল করা হয়েছে। রেল জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর দিল্লির ওই দুই স্টেশনের আশপাশে তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। যাত্রীদের যাতে স্টেশনে পৌঁছতে গিয়ে একই ধরনের সমস্যায় পড়তে না হয়, সে কথা মাথায় রেখেই আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পূর্ব রেলের তরফে শুক্রবার ছাড়ার কথা থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী এক্সপ্রেসও বাতিল করা হয়েছে। ট্রেন দুটি হল ১২৩০১ হাওড়া-নিউ দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস এবং ১২৩১৩ শিয়ালদহ-নিউ দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস। এই দুই ট্রেনের যাত্রীদের যাত্রার আগে রেলের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নেওয়া জরুরি।
রেলের বক্তব্যে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও যান চলাচল সংক্রান্ত সতর্কবার্তার উল্লেখ রয়েছে। তবে ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্তকে সরাসরি বিক্ষোভের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেনি রেল। সরকারি বিবৃতিতে মূলত স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় যানজটের আশঙ্কা এবং যাত্রীদের অসুবিধা এড়ানোর বিষয়টিকেই কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে কক্রোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party বা CJP) এবং কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভের কর্মসূচি রয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচি ডাকা হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ রয়েছে; নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিকে অবশ্য অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
এই বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের প্রস্তুতি এবং বিক্ষোভকারীদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের খবরের মধ্যেই রেলের এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। তবে যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল, তাঁদের নির্দিষ্ট ট্রেনটি বাতিল হয়েছে কি না এবং বিকল্প পরিষেবা সম্পর্কে রেল কী নির্দেশ দিয়েছে, তা যাচাই করে নেওয়া।
যাঁদের শনিবার সকালে দিল্লি পৌঁছনোর কথা, তাঁদের যাত্রার আগে ভারতীয় রেলের সরকারি অনুসন্ধান ব্যবস্থা বা সংশ্লিষ্ট রেলওয়ের বিজ্ঞপ্তি দেখে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে রাজধানী এক্সপ্রেসে যাত্রার পরিকল্পনা থাকলে ট্রেন বাতিলের তথ্য নিশ্চিত না করে স্টেশনের উদ্দেশে রওনা হওয়া ঠিক হবে না।



