এক বছর আগেই দেশের মাটিতে ভারতকে প্রথম মহিলা ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন হরমনপ্রীত কৌর। কয়েক সপ্তাহ আগেই তাঁর নেতৃত্বে এশিয়ান গেমসেও সোনা জিতেছে ভারত। সেই সাফল্যের পরই হঠাৎ তিন ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩৭ বছরের এই তারকা। তাঁর জায়গায় নতুন অধিনায়ক হয়েছেন স্মৃতি মন্ধানা। আর নেতৃত্ব বদলের পরেই দুই ক্রিকেটারের সম্পর্ক ও দলের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
হরমনপ্রীত নিজে অবশ্য অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণায় দলের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI)-এর তরফেও তাঁর নেতৃত্ব ও অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, অধিনায়কত্ব নিয়ে হরমনপ্রীত ও স্মৃতির মধ্যে কিছুদিন ধরে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এমনকি দলের অন্দরেও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে একটি PTI-ভিত্তিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য অবশ্য প্রকাশ্যে নেই।
২১১ ম্যাচে নেতৃত্ব, তারপর আচমকাই সিদ্ধান্ত
হরমনপ্রীতের নেতৃত্বের অধ্যায় মোটেই সাধারণ নয়। ICC-র তথ্য অনুযায়ী, তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তিনি ভারতকে ২১১টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সালে পূর্ণ সময়ের T20I অধিনায়ক হন তিনি এবং ২০২২ সালে ওয়ানডে ও টেস্ট দলেরও নিয়মিত নেতৃত্ব পান।
তাঁর নেতৃত্বেই ২০২৫ সালে প্রথমবার মহিলা ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে ভারত। এছাড়াও এশিয়ান গেমসে সোনা-সহ একাধিক বড় সাফল্য এসেছে তাঁর নেতৃত্বে।
এমন সাফল্যের পরও তিন ফরম্যাট থেকে একসঙ্গে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
হরমনপ্রীতের নেতৃত্ব ছাড়ার আগে গুয়াহাটিতে বিসিসিআইয়ের একটি পর্যালোচনা বৈঠক হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, বিশেষ করে T20 বিশ্বকাপে ভারতের নকআউটে উঠতে না পারার বিষয়টি সেখানে আলোচনায় আসে। এরপরই নেতৃত্বে পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসে।
Indian Express-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, হরমনপ্রীত নেতৃত্ব চালিয়ে যেতে আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু নির্বাচকদের তরফে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। এরপরই তিনি তিন ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
অর্থাৎ, শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবেই হরমনপ্রীতের পদত্যাগকে দেখলে পুরো ছবিটা ধরা পড়ে না। দলের সাম্প্রতিক ফলাফল এবং নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়েও বোর্ডের মধ্যে পর্যালোচনা চলছিল।
হরমনপ্রীতের জায়গায় খুব দ্রুত স্মৃতি মন্ধানার নাম ঘোষণা করে বিসিসিআই। ৬ অক্টোবরই তাঁকে তিন ফরম্যাটের নতুন অধিনায়ক করা হয়। স্মৃতি এর আগে হরমনপ্রীতের ডেপুটি ছিলেন এবং ১৮টি T20I ও চারটি ODI-তে ভারতকে নেতৃত্বও দিয়েছেন।
নেতৃত্ব বদলের পরই দুই তারকার সম্পর্ক নিয়ে নানা দাবি সামনে আসে। PTI-ভিত্তিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, অধিনায়কত্বের বিষয়টি নিয়ে দু’জনের মধ্যে কিছুদিন ধরে মতপার্থক্য ছিল এবং তাঁরা নাকি একে অপরের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগও করছিলেন না। দলের অন্দরেও এর প্রভাব পড়েছিল বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে এই অংশটি এখনও রিপোর্টভিত্তিক দাবি। হরমনপ্রীত বা স্মৃতির কোনও প্রকাশ্য বক্তব্যে ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।
হরমনপ্রীতের বিদায়ের পর স্মৃতির উপরই পড়েছে ভারতীয় মহিলা দলের তিন ফরম্যাটের দায়িত্ব। নতুন অধিনায়ক হিসেবে স্মৃতি তাঁর বক্তব্যে হরমনপ্রীতের দীর্ঘ নেতৃত্বের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
বিসিসিআইও হরমনপ্রীতের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে। বোর্ড জানিয়েছে, তাঁর নেতৃত্ব ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁর অধীনে দল একাধিক ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে।
ফলে নেতৃত্ব বদলের সঙ্গে পুরনো অধিনায়ক ও নতুন অধিনায়কের সম্পর্ক নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার পাশাপাশি দলের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল মাঠের পারফরম্যান্স ধরে রাখা।
অধিনায়কত্ব ছাড়লেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছেন না হরমনপ্রীত। তিনি স্পষ্ট করেছেন, দলের হয়ে খেলতে চান এবং ক্রিকেটার হিসেবেই নিজের যাত্রা চালিয়ে যাবেন।
তাই এখন আসল নজর থাকবে নতুন নেতৃত্বে ভারতীয় দলের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ কেমন থাকে এবং মাঠের পারফরম্যান্সে তার কোনও প্রভাব পড়ে কি না, তার দিকে। হরমনপ্রীত ও স্মৃতি দু’জনেই দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। ফলে নেতৃত্ব বদলের পর তাঁদের পারস্পরিক সমন্বয় আগামী দিনে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।



