তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের সাংসদ পদ এখনও বাতিল হয়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে অযোগ্য ঘোষণার আবেদন রয়েছে এবং সেই মামলায় জবাব দেওয়ার জন্য লোকসভা সচিবালয় ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। ফলে ভাইরাল হওয়া “২০ জন NCPI সাংসদের পদ বাতিল” দাবির সঙ্গে বর্তমান সরকারি প্রক্রিয়ার মিল নেই।
বিষয়টির সূত্রপাত চলতি বছরের জুনে। তৃণমূলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ দল থেকে বেরিয়ে Nationalist Citizens Party of India (NCPI)-তে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন এবং বিজেপি-নেতৃত্বাধীন NDA-কে সমর্থনের অবস্থান জানান। ওই সাংসদেরা দাবি করেন, তাঁদের এই পদক্ষেপ দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় পড়বে না।
অন্য দিকে, তৃণমূলের লোকসভা নেতা তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) তাঁদের বিরুদ্ধে পদ খারিজের আবেদন করেন। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত সাংসদেরা দল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক দলে যাওয়ায় সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হওয়া উচিত।
এই ২০ জনের মধ্যে রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, ইউসুফ পাঠান, সায়নী ঘোষ, জুন মালিয়া, দীপক অধিকারী দেব, পার্থ ভৌমিক, মিতালি বাগ, মালা রায়-সহ আরও অনেকে। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তৃণমূলের লোকসভা সাংসদদের দুই-তৃতীয়াংশ তাঁদের সঙ্গে থাকায় তাঁদের NCPI-তে যোগদানের ক্ষেত্রে দলত্যাগ-বিরোধী আইনের ‘merger’ সংক্রান্ত সুরক্ষা প্রযোজ্য।
এই যুক্তি অবশ্য তৃণমূল মেনে নেয়নি। দুই পক্ষের রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেও রয়েছে। লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)-র কাছে থাকা অযোগ্য ঘোষণার আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছেন অভিষেক।
আগস্টে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে নোটিস দেয়। সেই শুনানিতে অভিষেকের আবেদনের মূল বিষয় ছিল, স্পিকারের কাছে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা অযোগ্য ঘোষণার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা।
সেপ্টেম্বরে মামলাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। তিন বিচারপতির বেঞ্চ স্পিকারের সিদ্ধান্ত নিতে তিন মাসের বেশি সময় লাগাকে ‘red flag’ বলে উল্লেখ করে এবং বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার কথা জানায়। তবে আদালত স্পিকারকে নির্দিষ্ট কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেয়নি।
এর পর ২০ জন সাংসদকে তাঁদের বক্তব্য জানানোর জন্য আরও সময় দেওয়া হয়। তাঁরা ২২ সেপ্টেম্বর আরও চার সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন, কিন্তু লোকসভা সচিবালয় তাঁদের সেই পরিমাণ সময় না দিয়ে ৮ অক্টোবরের মধ্যে জবাব দিতে বলে।
অর্থাৎ, ২০ জন সাংসদের পদ বাতিল হয়ে গিয়েছে—এমন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে অযোগ্য ঘোষণার প্রক্রিয়া চলছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় তাঁদের বক্তব্যও এখনও বিবেচনাধীন।
এর পাশাপাশি NCPI-তে যোগ দেওয়া বিদ্রোহী সাংসদদের লোকসভায় অবস্থান নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। তাঁদের আলাদা আসনের ব্যবস্থা করা হলেও, তাঁদের রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে নিয়ে স্পিকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও সামনে আসেনি।
৮ অক্টোবরের জবাবের পর অযোগ্য ঘোষণার আবেদনে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটিই এখন এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়।



