দেশজুড়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই স্থগিত হল তাঁর ছত্তীসগঢ় সফর। ৭ ও ৮ অক্টোবর রাজ্যের একাধিক এলাকায় যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে সফর বাতিলের কারণ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ‘অনিবার্য কারণ’। নতুন সফরসূচি পরে জানানো হবে।
ছত্তীসগঢ়ের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে জারি করা চিঠিতে সফর স্থগিতের কথা জানানো হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে এই সফরের জন্য রাজ্য অতিথি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। তাঁর সফর ঘিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও শুরু করেছিল প্রশাসন।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ছত্তীসগঢ়ে গিয়ে দান্তেওয়াড়া জেলার দান্তেশ্বরী মন্দির, বস্তারের চিত্রকূট জলপ্রপাত এবং কবর্ধার ভোরমদেব মন্দির-সহ কয়েকটি জায়গায় যাওয়ার কথা ছিল জ্ঞানেশের। দু’দিনের সফরেই একাধিক সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় স্থানে তাঁর যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
তবে সফর স্থগিত হওয়ার সময়টি রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক দিন ধরেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ হয়েছে। দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সাংসদেরাও নির্বাচন কমিশনের দফতর অভিমুখে মিছিল করেন। ৬ অক্টোবরের সেই কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ।
বিরোধীদের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR (Special Intensive Revision)। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি জানিয়ে আসছে বিরোধী দলগুলি। তবে কমিশন জানিয়েছে, জ্ঞানেশের ছত্তীসগঢ় সফর কেন স্থগিত করা হল, তার নির্দিষ্ট কোনও কারণ এই মুহূর্তে জানানো হয়নি।
এটি অবশ্য জ্ঞানেশ কুমারের কোনও কর্মসূচি স্থগিত হওয়ার প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে উত্তরপ্রদেশে তাঁর একাধিক যুব ভোটার সচেতনতা কর্মসূচিও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছিলেন, স্থান, উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সময়সূচি এবং অন্যান্য কারণেও কর্মসূচির তারিখে পরিবর্তন হতে পারে।
ছত্তীসগঢ় সফর স্থগিত হওয়ার ক্ষেত্রেও কমিশন একই ভাবে শুধু ‘অনিবার্য কারণ’-এর কথা জানিয়েছে। ফলে দিল্লিতে চলা বিক্ষোভের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়নি। সফরের নতুন তারিখ ঘোষণা হলে তবেই পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে স্পষ্ট হবে।
এদিকে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপের পরিধি আরও বেড়েছে। কেরলে ২০০৬ সালের একটি পুরনো দুর্নীতি-সংক্রান্ত তদন্তও নতুন করে খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবিতে দিল্লি, মুম্বই-সহ একাধিক জায়গায় প্রতিবাদ হয়েছে। এসব অভিযোগ ও রাজনৈতিক দাবির সত্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য আলাদা; জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে আদালত বা কোনও তদন্তে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে ধরা হয়নি।
ছত্তীসগঢ়ের সফর আপাতত স্থগিত। নির্বাচন কমিশনের চিঠি অনুযায়ী, পরবর্তী তারিখ পরে জানানো হবে। ‘অনিবার্য কারণ’-এর বাইরে সফর পিছোনোর কোনও নির্দিষ্ট কারণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।



