ফলপ্রকাশের আগেই ‘হার’ হুমায়ুনের! রেজিনগরে ভোটলুটের অভিযোগ, রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা

রেজিনগরে বিজেপির জয় নিশ্চিত বলে দাবি হুমায়ুনের, তবে সেটিকে জনমত মানতে নারাজ তিনি; পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে বিধানসভা বয়কটের ঘোষণা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রেজিনগর উপনির্বাচনের ফল ঘোষণা এখনও বাকি। তার আগেই কার্যত নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, রেজিনগরে বিজেপি বিপুল ভোটে জিতবে ঠিকই, কিন্তু সেই জয় জনমতের প্রতিফলন হবে না। ভোটে ‘প্রহসন’ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসর নেওয়ার কথা জানালেন তিনি।

শুধু রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণাই নয়, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন হুমায়ুন। জানিয়েছেন, শুভেন্দু অধিকারী যত দিন মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন, তত দিন তিনি বিধানসভায় যাবেন না। তবে নওদার মানুষের জন্য বিধায়ক হিসেবে তাঁর এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নওদা এবং রেজিনগর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছাড়তে হওয়ায় তিনি রেজিনগর ছেড়ে দেন। তাঁর ছেড়ে দেওয়া আসনে উপনির্বাচনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হন তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদ।

৬ অক্টোবর রেজিনগরে ভোটগ্রহণের দিন সকালেই পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন হুমায়ুন। তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পুলিশ ও প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, ভোটের দিন প্রার্থী না হয়েও এলাকায় ঘোরাফেরা এবং নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা তৈরির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁকে আটকের কথা উঠে এসেছে।

প্রায় ১২ ঘণ্টা পর মুক্তি পাওয়ার পরে বুধবার রেজিনগরের ভোট নিয়ে নিজের অবস্থান জানান হুমায়ুন। তাঁর দাবি, রেজিনগরে বিজেপির জয় নিশ্চিত হলেও সেটিকে তিনি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত রায় বলে মানছেন না। রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট ‘চুরি’ করা হয়েছে—এমনই অভিযোগ করেন তিনি। এই অভিযোগের পক্ষে কোনও স্বাধীন নির্বাচনী প্রমাণ তিনি প্রকাশ্যে দিয়েছেন কি না, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।

কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তেও দেখা যায় তাঁকে। হুমায়ুন বলেন, এমন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় থেকে লড়াই করা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, ‘‘রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসর নেব। এমন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না।’’

এর পরেই বিধানসভা বয়কটের ঘোষণা করেন তিনি। হুমায়ুনের বক্তব্য, যে ব্যবস্থায় একজন নির্বাচিত বিধায়ককে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রাখতে পারে, সেই ব্যবস্থার প্রতি তাঁর আস্থা নেই। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের জন্য নওদার সাধারণ মানুষের কাছেও ক্ষমা চাইছেন।

তবে বিধানসভার কাজ থেকে সরে দাঁড়ালেও নিজের বিধানসভা এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছেন না বলে স্পষ্ট করেছেন হুমায়ুন। নওদার মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ চালু রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, বিধানসভার কার্যক্রমে অংশ না নিলেও নিজের বিধায়ক হিসেবে এলাকার দায়িত্ব পালন করবেন—এমনই বার্তা তাঁর।

অন্য দিকে, ভোটের দিনই হুমায়ুনের ছেলে এবং রেজিনগরের AJUP প্রার্থী গোলাম নবি আজাদও নির্বাচনের ফল নিয়ে আগাম মন্তব্য করেছিলেন। ভোট শেষ হওয়ার আগেই তিনি দাবি করেন, রেজিনগরের ফল কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং ৯ অক্টোবর গণনাকেন্দ্রে না যাওয়ার কথাও জানান।

রেজিনগর উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছে ৬ অক্টোবর। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর ভোটগণনা ও ফলপ্রকাশ হওয়ার কথা। ফলে তার আগেই হুমায়ুন কবীর ও তাঁর দলের তরফে ফল নিয়ে এমন মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি করেছে।

এর মধ্যেই হুমায়ুন ফের জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন, তা থেকে পিছিয়ে আসছেন না। রাজনৈতিক সক্রিয়তা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেও ওই উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

রেজিনগরের ফল কী হয়, তা জানা যাবে ৯ অক্টোবর। তার আগে হুমায়ুন কবীরের রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসর, বিধানসভা বয়কট এবং ভোট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ—সব মিলিয়ে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন