এবার কালীঘাটমুখী রথীন ঘোষ! ‘মমতার সঙ্গেই ছিলাম’, দাবি মধ্যমগ্রামের বিধায়কের

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে নাম থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই থাকার দাবি মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষের। ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ বলে আলাদা কোনও শিবিরও মানতে নারাজ তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তৈরি হওয়া বিভাজনের আবহে এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কদের তালিকায় নাম থাকলেও তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন বলে দাবি করেছেন রথীন। তাঁর বক্তব্য, ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ বলে কোনও আলাদা রাজনৈতিক শিবির নেই।

রথীনের এই মন্তব্যের পরই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের সঙ্গে তাঁর নামও যুক্ত ছিল। সেই শিবির থেকেই এর আগে আমডাঙার বিধায়ক কাশেম সিদ্দিকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকার কথা জানিয়েছিলেন। এবার একই সুর শোনা গেল রথীন ঘোষের গলাতেও।

‘মমতার সঙ্গেই ছিলাম, আছি, থাকব’

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কোনও দ্ব্যর্থতা রাখতে চাননি রথীন ঘোষ। তাঁর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া টিকিটেই তিনি জয়ী হয়েছেন। ফলে তৃণমূল বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

রথীন ঘোষ বলেন, “ঋতব্রত তৃণমূল বলে কিছু নেই। ঋতব্রত আলাদা শিবির বলে আমি মনে করি না। তিনি শুধুমাত্র বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। মমতাকে দেখেই রাজনীতি করছি, মমতার সঙ্গেই আছি।”

তিনি আরও দাবি করেন, তিনি তৃণমূল ছেড়ে কোথাও যাননি। তাঁর কথায়, তৃণমূলে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কোনও আন্দোলন বা কর্মসূচি ঘোষণা করলে তৃণমূল কর্মী হিসেবেই সেখানে অংশ নেবেন বলেও জানান মধ্যমগ্রামের বিধায়ক।

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরে প্রকাশ্যে বিভাজন তৈরি হয়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৫ জন বিধায়ককে নিয়ে একটি পৃথক শিবির তৈরি হওয়ার দাবি সামনে আসে। ওই বিধায়কদের সমর্থনেই ঋতব্রতকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

সেই তালিকাতেই রথীন ঘোষের নাম ছিল। ফলে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও রথীন নিজেই ‘ঋতব্রত শিবির’ বলে আলাদা কোনও রাজনৈতিক অস্তিত্ব স্বীকার করতে নারাজ।

এর আগে ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কয়েকদিন আগে আমডাঙার বিধায়ক কাশেম সিদ্দিকীও ঋতব্রতপন্থী শিবির থেকে বেরিয়ে মমতার সঙ্গে থাকার কথা জানান। এবার রথীন ঘোষের বক্তব্য সেই ধারাবাহিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করল।

রথীন ঘোষের বক্তব্যের মূল সুর হল, তিনি নিজেকে তৃণমূলেরই বিধায়ক হিসেবে দেখছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর নাম থাকা মানেই তিনি তৃণমূলের মূল নেতৃত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছেন— এমনটা নয়।

তবে এই রাজনৈতিক অবস্থানের ব্যাখ্যা নিয়ে দুই শিবিরের বক্তব্য এক নয়। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় রথীনের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন।

বৈশ্বানরের দাবি, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব কোনও সংগঠন নেই এবং বিষয়টি এখন অনেকেই বুঝতে পারছেন। তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলকে ফিরে আসার আবেদন করেছেন। রথীন ঘোষ সেই অবস্থান উপলব্ধি করেই মন্তব্য করেছেন বলে মনে করেন তিনি।

রথীন ঘোষের এই বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এল, যখন তৃণমূলের দুই শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিধায়কদের পৃথক অবস্থান, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের তরফে তাঁদের ফেরানোর আহ্বান— এই দুইয়ের মাঝে একের পর এক বিধায়ক নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করছেন।

কাশেম সিদ্দিকীর পর রথীন ঘোষও মমতার সঙ্গে থাকার কথা জানানোয় সেই প্রক্রিয়া আরও আলোচনায় এসেছে। তবে রথীন ঘোষের বক্তব্যের পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ভবিষ্যতে কী আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ হয়, সেটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

এই মুহূর্তে অবশ্য রথীনের নিজের বক্তব্য স্পষ্ট— তিনি তৃণমূল ছেড়ে যাননি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই থাকার দাবি করছেন। ফলে বিধানসভায় দুই শিবিরের সমীকরণে তাঁর অবস্থান আগামী দিনে কীভাবে প্রতিফলিত হয়, নজর থাকবে সেদিকেই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন