নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ভারতীয় দলে দীর্ঘদিন পর ফিরেছেন অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। ২০২২ সালের পর জাতীয় দলের বাইরে থাকা ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ওয়াসিম জাফর। তাঁর মতে, শুধু তরুণদের উপর নির্ভর না করে বিশ্বকাপের আগে অভিজ্ঞ পেসারদেরও যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তন নিয়ে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে মতামত দিতে গিয়ে জাফর স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁকে কোনও দয়া বা করুণার ভিত্তিতে জাতীয় দলে ফেরানো হয়নি। ঘরোয়া ক্রিকেটে উত্তরপ্রদেশের হয়ে এবং আইপিএলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও ফিটনেসের জোরেই ভুবনেশ্বর ফের জাতীয় দলের দরজা খুলেছেন বলে মনে করেন তিনি।
জাফরের যুক্তি, ক্রিকেটার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বয়সকে মাপকাঠি করা উচিত নয়। বর্তমান ফর্ম, অভিজ্ঞতা এবং বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর ক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া দরকার, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে অভিজ্ঞদের একেবারে বাইরে রাখা হবে।
শামিকে নিয়ে কেন সরব ওয়াসিম জাফর?
ভুবনেশ্বরের পাশাপাশি মহম্মদ শামি এবং মহম্মদ সিরাজের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জাফর। বিশেষ করে টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে শামির মতো বিশ্বমানের পেসারকে পর্যাপ্ত সুযোগ না দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি।
জাফরের মতে, ভারতীয় দল একাধিক তরুণ পেসারকে পরীক্ষা করে দেখেছে। গুরনুর ব্রার, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা এবং নীতীশ রেড্ডির মতো ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁদের নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত কি না, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পেসারের জায়গা নিয়ে এখনও পরিষ্কার ছবি পাওয়া যাচ্ছে না। সিরাজকেও নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে শামিকে ভারতীয় দলে রাখার পক্ষেই সওয়াল করেছেন জাফর। তাঁর মতে, দলের হাতে যখন শামির মতো অভিজ্ঞ ও মানসম্পন্ন পেসার রয়েছেন, তখন তাঁকে ব্যবহার করাই উচিত।
জাফরের পছন্দের পেস আক্রমণেও অভিজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় জশপ্রীত বুমরাহ, মহম্মদ শামি এবং মহম্মদ সিরাজকে একসঙ্গে খেলানোর কথা ভাবা যেতে পারে।
অর্থাৎ, তরুণ পেসারদের ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করার পাশাপাশি বর্তমান সময়ের সেরা অভিজ্ঞ বোলারদেরও বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে যথেষ্ট ম্যাচ দেওয়া উচিত— এটাই তাঁর বক্তব্যের মূল সুর।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার। তাঁর মতে, বড় ম্যাচে কঠিন পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধুমাত্র ভবিষ্যতের কথা ভেবে বর্তমানের অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না।
বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে বোলিং আক্রমণের ভারসাম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন তরুণ পেসার প্রতিভাবান হলেও বড় টুর্নামেন্টের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাঁর নাও থাকতে পারে। সেই জায়গায় শামি, বুমরাহ কিংবা সিরাজের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরীক্ষিত বোলাররা বাড়তি সুবিধা দিতে পারেন বলে মনে করেন জাফর।
শামির প্রত্যাবর্তন নিয়ে বড় প্রশ্ন
মহম্মদ শামির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাফর। তাঁর মতে, সামনে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সিরিজ থাকলেও যদি শামিকে নিয়মিত সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে জাতীয় দলে তাঁর প্রত্যাবর্তনের রাস্তা ক্রমশ কঠিন হয়ে যেতে পারে।
তাই এখন থেকেই বোলিং আক্রমণের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরি করার সময় তরুণ প্রতিভা এবং অভিজ্ঞতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন জাফর। বিশ্বকাপ এখনও কিছুটা দূরে থাকলেও তার প্রস্তুতি যে এখন থেকেই শুরু করা দরকার, তাঁর বক্তব্যে সেই বার্তাই স্পষ্ট।
ভুবনেশ্বর কুমারের প্রত্যাবর্তন সেই আলোচনাকেই আরও জোরালো করেছে। অভিজ্ঞ পেসারকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত যদি কার্যকর হয়, তাহলে শামি ও সিরাজের ক্ষেত্রেও নির্বাচক এবং টিম ম্যানেজমেন্ট একইভাবে অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেবে কি না, সেটাই এখন দেখার।



