মুখ্যমন্ত্রীর ‘মৃত্যুকামনা’র পরই সুর বদল, এবার শুভেন্দুর দীর্ঘায়ু চাইলেন হুমায়ুন

সকালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মৃত্যুকামনা করে বিতর্কে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। কয়েক ঘণ্টা পরেই সুর বদলে দীর্ঘায়ু ও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শুভেচ্ছা জানালেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

একই দিনে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের। রবিবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্রুত মৃত্যুর জন্য প্রার্থনা করার কথা বলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। কয়েক ঘণ্টা পরেই বিকেলে মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করলেন হুমায়ুন। পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী যেন আগামী দিনে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন, সেই শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তিনি।

সকালে সাংবাদিকদের সামনে শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেছিলেন হুমায়ুন। নিজের দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্রুত পৃথিবী থেকে বিদায়ের জন্য প্রার্থনা করবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। সেই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়।

হুমায়ুনের বক্তব্য ছিল, তাঁর দলের কর্মীরা পুলিশের চাপে সমস্যায় রয়েছেন। সেই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য শুভকামনা না করে তাঁর দ্রুত ‘উপরওয়ালার কাছে চলে যাওয়ার’ জন্য প্রার্থনা করবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যে ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী এবং অন্য কয়েক জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যুর প্রসঙ্গও টানেন তিনি।

এর পরেই বিকেলে সম্পূর্ণ অন্য সুরে কথা বলতে শোনা যায় হুমায়ুন কবীরকে। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘদিন পৃথিবীতে বেঁচে থাকুন এবং নিজের মেয়াদ ভালো ভাবে পূরণ করুন।

শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী যেন মানুষের কাছে সুনাম ও সুখ্যাতি অর্জন করেন, সেই শুভেচ্ছাও জানান তিনি। এরপর আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, আগামী দিনে নরেন্দ্র মোদির পর শুভেন্দু অধিকারী যেন দেশের প্রধানমন্ত্রী হন।

হুমায়ুনের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। কিন্তু বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রে সেই স্বপ্ন পূরণ হোক, এমনটাই তাঁর শুভেচ্ছা। শুভেন্দুর ‘পদোন্নতি’ হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কামনাও করেন তিনি।

সকালের মন্তব্যের পর হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও সামনে এসেছে। প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে বহরমপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষ তাঁর মন্তব্যকে উস্কানিমূলক বলে দাবি করে আইনানুগ পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে।

হুমায়ুনের সকালের বক্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও এসেছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় তাঁর মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু কারও মৃত্যুকামনা করা উচিত নয়।

একই দিনে হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যের এই নাটকীয় পরিবর্তন ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। সকালে মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যু কামনার বক্তব্য, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর দীর্ঘায়ু ও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শুভেচ্ছা—দুই বক্তব্যই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন