নেতাজি ইন্ডোরে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে সাধু-সন্তদের নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, সাধু-সন্ত-মহন্তদের অপমান করলে জেলে যেতে হবে। পাশাপাশি গীতাপাঠ, হনুমান চালিশা পাঠ কিংবা হরেকৃষ্ণ মন্ত্র জপ নিয়ে কোনও ভয় না পাওয়ার বার্তাও দেন তিনি।
রবিবার নেতাজি ইন্ডোরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সম্প্রতি বাগেশ্বর ধাম প্রধান ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খাবার নিয়ে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর মন্তব্যের পর রাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে ভবানীপুরে তাঁর ছবি পোড়ানোর অভিযোগে এক কংগ্রেস নেতাকে গ্রেফতার করা হয়।
নেতাজি ইন্ডোরের মঞ্চ থেকে শুভেন্দু বলেন, সাধু-সন্ত-মহন্তদের অপমান করলে জেলে যেতে হবে। তিনি দাবি করেন, বিধানসভাতেও বিষয়টি নিয়ে তিনি সতর্ক করেছিলেন। বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর ঘটনায় যাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁকে ওই রাতেই গ্রেফতার করানোর কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এর আগে বিধানসভায় ভবানীপুর থানার সামনে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ছবি পোড়ানোর অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে পুলিশকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যের পরেই দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে গ্রেফতার করা হয় বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে এসে দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খাবার নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়। কংগ্রেসের তরফে ভবানীপুর থানার সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি করা হয় এবং সেখানে বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানো হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় পুলিশি পদক্ষেপের পর রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়।
অন্যদিকে, ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী পরে দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি জানান, নির্দিষ্ট ভাবে বাঙালিদের খাদ্যাভ্যাসের বিরুদ্ধে মন্তব্য করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। তাঁর বক্তব্য ছিল দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের পবিত্রতা এবং অহিংসা নিয়ে।
রবিবারের অনুষ্ঠানে শুভেন্দু আরও বলেন, এখন মানুষ নিজের মতো করে গীতাপাঠ করতে পারবেন, হনুমান চালিশা পড়তে পারবেন, হরেকৃষ্ণ মন্ত্র জপ করতে পারবেন। শাঁখ বাজানো বা মৃদঙ্গ বাজানোর ক্ষেত্রেও কোনও ভয় নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “জমানা বদলে গিয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর সরকারের লক্ষ্য গোমাতাকে রক্ষা করা এবং সবাইকে একসঙ্গে থাকার আহ্বান জানান।
এদিনের অনুষ্ঠানে আগামী ২৯ ডিসেম্বর ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের কর্মসূচির কথাও জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই কর্মসূচিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
নেতাজি ইন্ডোরের অনুষ্ঠানে শুভেন্দুর বক্তব্যে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সাধু-সন্তদের সম্মান এবং রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি—এই তিনটি বিষয়ই উঠে আসে। বিশেষ করে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রেক্ষিতে তাঁর বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



