বল হাতে ফের নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিলেন মহম্মদ শামি। দিল্লির বিরুদ্ধে রনজি ট্রফির ম্যাচে ১৭.৩ ওভার বল করে মাত্র ৩০ রান দিয়ে চারটি উইকেট তুলে নিয়েছেন বাংলার অভিজ্ঞ পেসার। তাঁর দাপটে প্রথম ইনিংসে দিল্লিকে ২৪০ রানে আটকে দিতে সক্ষম হয়েছে বাংলা। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে সাফল্য এলেও কল্যাণী স্টেডিয়ামের পিচ নিয়ে একেবারেই সন্তুষ্ট নন শামি। একই সঙ্গে নিজের ফিটনেস, জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা এবং ভুবনেশ্বর কুমারের প্রত্যাবর্তন নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি।
রবিবার থেকে শুরু হয়েছে বাংলার রনজি অভিযান। ঘরের মাঠে দিল্লির বিরুদ্ধে প্রথম দিনেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছে বঙ্গ ব্রিগেড। শামির পাশাপাশি আকাশ দীপের মতো পেসার থাকলেও কল্যাণীর উইকেট থেকে প্রত্যাশিত সাহায্য না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার।
কল্যাণীর পিচ নিয়ে কেন ক্ষুব্ধ শামি?
বাংলার বোলিং বিভাগে শামি, আকাশ দীপ ও মুকেশ কুমারের মতো পেসার রয়েছেন। কিন্তু ঘরের মাঠে তাঁদের দক্ষতার সঙ্গে মানানসই উইকেট না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শামি।
তাঁর বক্তব্য, বাংলার পেস আক্রমণ যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও কল্যাণীর পিচ থেকে সেই অনুযায়ী সুবিধা পাওয়া যায় না। ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা কাজে লাগাতে গেলে পেসারদের সহায়ক উইকেট প্রয়োজন বলেই মনে করেন তিনি।
শামির কথায়, “আমাদের দলের আকাশ আছে। মুকেশ আছে। এমন পেস অ্যাটাক অন্য দলে নেই। কিন্তু কল্যাণীর পিচে আমরা তার সুবিধা পাই না। তাহলে আর হোম অ্যাডভান্টেজের মানেটা কী?”
সবুজ ঘাসে ঢাকা অত্যন্ত দ্রুতগতির উইকেট বা গ্রিনটপের দাবি করছেন না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। তবে পেসারদের জন্য কিছুটা সহায়ক পরিবেশ থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলার এই তারকা।
বৃষ্টির পরেও উইকেটে প্রত্যাশিত সাহায্য না মেলায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শামি। তাঁর মতে, বৃষ্টির পরে উইকেটে আরও ঘাস থাকার কথা। এই বিষয়ে আগেও একাধিকবার দাবি জানানো হলেও কোনও সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
দিল্লির বিরুদ্ধে শামির বোলিং পরিসংখ্যান তাঁর কার্যকারিতারই প্রমাণ। ১৭.৩ ওভারে ৩০ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়েছেন তিনি। প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের বিরুদ্ধে সুইং ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিজের স্বাভাবিক দক্ষতা দেখিয়েছেন বাংলার পেসার।
শামির মতে, বলের সুইং করানো তাঁর সহজাত দক্ষতা। নিজের বোলিং সম্পর্কে তিনি বলেন, “এটা আমার ন্যাচারাল স্কিল।”
বয়স ও ফিটনেস নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হলেও শামি সেসব নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাতে চান না। তাঁর বক্তব্য, মাঠে নেমে পারফরম্যান্স করাই তাঁর কাজ। কে কী মন্তব্য করছেন, তা নিয়ে চিন্তা না করে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
শামির কথায়, “লোকে নিজের মতো করে মন্তব্য করতে ভালোবাসে। কেউ বলে আমি ছন্দে নেই। কেউ বলে ফিট নই। কিন্তু এ সব নিয়ে আমি একেবারেই চিন্তিত নই। মাঠে নেমে সুযোগ পেলেই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি।”
ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও উল্লেখযোগ্য। গত রনজি মরশুমে সাত ম্যাচে ৩৭টি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি বিজয় হাজারে ট্রফিতেও উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। ফলে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য মাঠের পারফরম্যান্সকেই সবচেয়ে বড় মাপকাঠি হিসেবে দেখছেন এই পেসার।
জাতীয় দলের নির্বাচক অজিত আগরকরের জমানায় শামির ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫-এ খেলার পরেও জাতীয় দলে তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন আর প্রকাশ্যে বেশি কথা বলতে চান না তিনি।
শামি জানিয়েছেন, এই বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলা তিনি বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, কে কী সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটা তাঁদের বিষয়। একজন ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর দায়িত্ব মাঠে নেমে ভালো খেলা।
তিনি বলেন, “এসব নিয়ে কথা বলা আমি বন্ধ করে দিয়েছি। এখন আর বিষয়গুলো আমাকে ভাবায় না। কে কী করতে চান, করুন। আমার কাজ শুধু ক্রিকেট খেলা।”
অর্থাৎ, জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে কোনও দাবি না করলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে চান বাংলার পেসার।
দীর্ঘ বিরতির পরে ভুবনেশ্বর কুমারের প্রত্যাবর্তন নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন শামি। তাঁর মতে, কোনও ক্রিকেটার প্রতিভাবান হলে এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করলে তাঁকে সুযোগ দেওয়া উচিত।
ভুবনেশ্বরের প্রসঙ্গে শামি বলেন, “এত দিন পরে ও সুযোগ পেয়েছে। এটা দেখে ভালো লাগছে। আইপিএলে ধারাবাহিক ভাবে ভালো খেলেছে।”
তিনি আরও মনে করেন, প্রত্যেক ক্রিকেটারেরই নিজের পারফরম্যান্স দেখানোর সুযোগ পাওয়া উচিত। প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও কাউকে দীর্ঘদিন বাইরে বসিয়ে রাখা উচিত নয় বলেই মত তাঁর।
ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তন নিয়ে খুশি হলেও নিজের জাতীয় দলে ফেরার বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দেননি শামি। আপাতত তাঁর লক্ষ্য স্পষ্ট—ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ভালো বোলিং করা এবং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা তুলে ধরা।
দিল্লির বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই চার উইকেট নিয়ে সেই লক্ষ্যপূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছেন বাংলার পেসার। তবে কল্যাণীর পিচ নিয়ে তাঁর অসন্তোষ এবং জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন নিয়ে তাঁর অবস্থান—দুই বিষয়ই ম্যাচের প্রথম দিনের আলোচনায় উঠে এসেছে।




