যন্তর মন্তরে ব্যারিকেড টপকে বিক্ষোভ, ফের আটক সৌরভ-আশুতোষরা

যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে দিল্লি পুলিশের নির্দেশের পরদিনই সেখানে পৌঁছন ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা। ব্যারিকেড টপকে ঢোকার চেষ্টা করতেই আটক হন সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কারা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা। সেখানে বিক্ষোভের অনুমতি নিয়ে দিল্লি পুলিশের নির্দেশের পরদিনই প্রতিবাদস্থলে পৌঁছে যান ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা। ব্যারিকেড টপকে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করতেই পুলিশ তাঁদের আটক করে বলে দাবি করা হয়েছে। আটক নেতাদের মধ্যে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার নাম রয়েছে। এই ঘটনার একাধিক ভিডিও মঙ্গলবার সকালে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করতে না দিলে গোটা দেশকেই প্রতিবাদের মঞ্চে পরিণত করা হবে। তার পরদিনই দলের নেতাদের এই কর্মসূচি ঘিরে ফের শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

প্রদত্ত খবর অনুযায়ী, সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, যন্তর মন্তরকে আর প্রতিবাদস্থল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলের দাবি, প্রতিবাদ করার জন্য বিকল্প স্থান ও সময় নির্ধারণের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

এর আগে দিল্লি পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল দলটি। ওই সময়ের মধ্যে নতুন করে প্রতিবাদের স্থান ও দিনক্ষণ জানানোর দাবি জানানো হয়। তা না হলে বড় পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল বলে খবর।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের তরফে বিকল্প তিনটি জায়গার কথা জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তার মধ্যে রামলীলা ময়দানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই মাঠে কর্মসূচি আয়োজনের খরচ এবং চলতি বছরের বুকিংয়ের অবস্থা সম্পর্কে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই মঙ্গলবার ভোরে সেখানে পৌঁছন ককরোচ জনতা পার্টির কয়েকজন নেতা। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের পোস্ট করা ভিডিওতে লোহার গেট ও পুলিশের ব্যারিকেড টপকে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে দিতে তাঁরা ব্যারিকেড পার হওয়ার চেষ্টা করেন বলে দাবি। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের আটক করে। আপাতত বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে খবর।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হতে পারে বলেও সূত্রের উল্লেখ রয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত এফআইআর দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত নয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঠিক কোন ধারায় পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য নেই।

ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা এর আগে নিটের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে কর্মসূচি করেছিলেন বলে প্রদত্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই আন্দোলনের সূত্র ধরেই জায়গাটিকে প্রতিবাদের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের বক্তব্য, যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করতে না দিলে দেশের অন্যত্রও প্রতিবাদ ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তাঁর এই মন্তব্যের পরদিনই দলের নেতাদের যন্তর মন্তরে পৌঁছে ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ বন্ধ করার নির্দেশের সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি, বিকল্প স্থানগুলির প্রাপ্যতা এবং আটক নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ সম্পর্কে সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে না এলে পুরো বিষয়টির আইনি অবস্থান স্পষ্ট হবে না।

নেতা-কর্মীদের আটক করা হলেও আন্দোলন বন্ধ হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। তাঁর বক্তব্য, যন্তর মন্তরে প্রতিবাদে বাধা দেওয়া হলেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীকেও প্রতিবাদ থামাতে পারবেন না বলে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি।

এখন নজর, আটক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে এবং ককরোচ জনতা পার্টি পরবর্তী কর্মসূচি কোথায় ঘোষণা করে। যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদের অধিকার, অনুমতি এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্ক কোন দিকে এগোয়, তা স্পষ্ট হবে পরবর্তী পদক্ষেপের পর।

সম্পাদনা নোট: প্রকাশের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশের মূল কপি, দিল্লি পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা এবং এফআইআর দায়েরের তথ্য যাচাই করুন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Advertisementspot_img

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর