পুজোয় বাংলাজুড়ে দেড় হাজার বুক স্টল বিজেপির, মোদিকে নিয়ে বইয়ে জোর

দুর্গাপুজোয় বড় মণ্ডপের সামনে বইয়ের স্টল তৈরির পরিকল্পনা বিজেপির। নরেন্দ্র মোদি ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে বইয়ের পাশাপাশি সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরতে বিনামূল্যে পুস্তিকা বিলির উদ্যোগ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাঙালির দুর্গাপুজোকে জনসংযোগের মঞ্চ হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি। পুজোর মরশুমে গোটা পশ্চিমবঙ্গে দেড় হাজারের বেশি বুক স্টল তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে গেরুয়া শিবির। এই স্টলগুলিতে নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছরের প্রশাসনিক জীবন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দর্শন এবং বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ইতিহাস নিয়ে বই রাখা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প এবং সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে তৈরি বিশেষ পুস্তিকা বিনামূল্যে বিলি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বড় বড় দুর্গাপুজোর মণ্ডপের সামনে এই বুক স্টল তৈরি করা হবে। পুজো দেখতে আসা মানুষের কাছে রাজনৈতিক বই ও সরকারি প্রকল্পের তথ্য পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বিজেপির বুক স্টলগুলিতে সাধারণত দলীয় আদর্শ, হিন্দুত্ব এবং জাতীয়তাবাদী ভাবধারার বইয়ের চাহিদা থাকে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। এবার সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখে নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ের বই বেশি করে রাখার পরিকল্পনা হয়েছে।

এবারের বুক স্টলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে লেখা বইয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। তাঁর ২৫ বছরের প্রশাসনিক জীবন ও রাজনৈতিক যাত্রা নিয়ে বই রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনী, রাজনৈতিক দর্শন এবং কাশ্মীর-সংক্রান্ত ভূমিকা নিয়ে লেখা বইও থাকবে।

বিজেপির বক্তব্য, বাংলায় তাদের সরকার গঠনের পর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। সেই কারণে তাঁর জীবন ও চিন্তাধারা বিষয়ক বইয়ের পর্যাপ্ত জোগান রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে আগ্রহ বৃদ্ধির দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট বিক্রির পরিসংখ্যান বা বইয়ের চাহিদা সংক্রান্ত তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

এ ছাড়াও বুক স্টলে পাওয়া যাবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ইতিহাস, সাংগঠনিক কাজকর্ম ও তাত্ত্বিক ভাবনা নিয়ে লেখা বই। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিজেপির উত্থান, দলের নেতাদের আত্মজীবনী এবং বিভিন্ন বক্তৃতার সংকলনও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। রামমন্দির-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের ইতিহাস নিয়েও বই থাকবে।

শুধু রাজনৈতিক বই নয়, বুক স্টলগুলিকে সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরার মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করতে চাইছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ও কাজ নিয়ে তৈরি বিশেষ পুস্তিকা বিনামূল্যে দেওয়া হবে পুজোর দর্শনার্থীদের।

পাশাপাশি রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রথম পাঁচ মাসে কী কী কাজ হয়েছে, তা তুলে ধরতে আলাদা পুস্তিকা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যে বিনিয়োগ, সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া মানুষের সংখ্যা, প্রশাসনিক সংস্কার, মহিলা সুরক্ষা এবং আর্থিক ক্ষমতায়নের মতো বিষয় সেখানে স্থান পাবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

এই পুস্তিকাগুলিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বিবরণ থাকলেও বিনিয়োগের পরিমাণ, প্রকল্পের উপভোক্তার সংখ্যা কিংবা প্রশাসনিক সংস্কারের নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। আপাতত এগুলি বিজেপির পরিকল্পিত প্রচারসামগ্রীর বিষয়বস্তু হিসেবেই সামনে এসেছে।

বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি অমিতাভ রায়, যিনি বুক স্টলের দায়িত্বে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জানিয়েছেন যে বড় পুজো মণ্ডপগুলির সামনে বইয়ের স্টল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে হাজারেরও বেশি বুক স্টল তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। অন্যদিকে, সামগ্রিক পরিকল্পনায় দেড় হাজারের বেশি স্টলের কথা বলা হয়েছে।

জেলাভিত্তিক পরিকল্পনায় প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে ১০০টি বুক স্টল তৈরির কথাও দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে সব জেলার জন্য এই লক্ষ্য কীভাবে কার্যকর হবে, কতগুলি স্টল ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত মোট কতগুলি স্টল তৈরি হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত হিসাব সামনে আসেনি।

দুর্গাপুজোর সময়ে মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের সমাগম হয়। সেই ভিড়ের মধ্যে বই এবং পুস্তিকার মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক ভাবনা ও সরকারের কাজ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ দেখছে বিজেপি। তাই এবারের পুজোয় বুক স্টলকে শুধু বই বিক্রির জায়গা নয়, জনসংযোগের একটি মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মোদি ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে বই, বিজেপি ও আরএসএসের ইতিহাস, রাজনৈতিক আন্দোলনের বিবরণ এবং সরকারি প্রকল্পের প্রচারপুস্তিকা—সব মিলিয়ে বুক স্টলগুলিতে একাধিক ধরনের সামগ্রী রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং পুজোর দর্শনার্থীদের মধ্যে এই বই ও পুস্তিকা কতটা সাড়া ফেলে, তা বোঝা যাবে কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Advertisementspot_img

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর