ভাষায় তিনটি নামের প্রস্তাব দিয়েছিল—বাংলায় ‘বাংলা’, ইংরেজিতে ‘বেঙ্গল’ এবং হিন্দিতে ‘বঙ্গাল’।
সেই প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। পরে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, রাজ্যের জন্য আলাদা আলাদা ভাষায় আলাদা নাম নয়, একটি অভিন্ন নাম প্রয়োজন। ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ‘বাংলা’ নামটি গ্রহণ করে একটি প্রস্তাব পাশ করে। সেই প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছিল।
তবে কেন্দ্রের অনুমোদন না মেলায় সেই নাম পরিবর্তন কার্যকর হয়নি। ২০১৯ সালে রাজ্যসভার লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ করার প্রস্তাবে কেন্দ্র অনুমোদন দেয়নি। রাজ্যের নাম পরিবর্তনের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন বলেও তিনি স্পষ্ট করেছিলেন।
এখানেই রয়েছে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দিক। কোনও রাজ্যের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শুধু রাজ্য বিধানসভায় প্রস্তাব বা বিল পাশ করলেই তা কার্যকর হয় না।
প্রথমে রাজ্য সরকারের তরফে প্রস্তাব যায় কেন্দ্রের কাছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট দফতরের মতামত নেয়। প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য হলে পরবর্তী পর্যায়ে সংসদে সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পেশ করতে হয়। সংসদের দুই কক্ষে সেটি পাশ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন প্রয়োজন। তারপরই রাজ্যের নাম পরিবর্তনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়।
অর্থাৎ, আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে বিজেপি সরকার বিল আনলে সেটি হবে প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, কিন্তু সেটিই চূড়ান্ত নাম পরিবর্তন নয়।
শমীকের বক্তব্যে রাজনৈতিক বার্তা
রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ করার প্রস্তাবে বিজেপি প্রথম থেকেই আপত্তি জানিয়েছিল। ২০১৮ সালে বিধানসভায় ‘বাংলা’ নামের প্রস্তাব পাশ হওয়ার সময়ও বিজেপি এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছিল।
এ বার রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরে সেই অবস্থানই প্রশাসনিক উদ্যোগে রূপ পাচ্ছে। শমীক ভট্টাচার্যের ঘোষণা অনুযায়ী, পরবর্তী বিধানসভা অধিবেশনে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামটি প্রতিষ্ঠার জন্য বিল আনা হবে।
তবে সেই বিলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে বিধানসভায় তার পরবর্তী অগ্রগতি এবং শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র ও সংসদের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার উপর। ফলে আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা নাম পরিবর্তনের বিতর্ক এবার নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কোন দিকে যায়, সেটিই নজরে থাকবে।



