বঙ্গ বিজেপির নজরে জেন জি, কমিটিতে বাড়ছে তরুণ মুখ! দিল্লির নির্দেশে নতুন পরিকল্পনা?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোয় এবার আরও বেশি করে তরুণ প্রজন্মকে জায়গা দেওয়ার পরিকল্পনা। দলের বিভিন্ন কমিটি এবং শাখা সংগঠনে নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ এসেছে বলে খবর। বিশেষ করে যুব ও মহিলা মোর্চার সাংগঠনিক কাঠামোয় তরুণ মুখকে সামনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি রাজ্য বিজেপিতে বড়সড় সাংগঠনিক রদবদলের পর এই উদ্যোগকে আরও গতি দেওয়া হচ্ছে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন করা হয়। যুব মোর্চার সভাপতি করা হয়েছে আমতার বিধায়ক অমিত সামন্তকে। মহিলা মোর্চার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অঞ্জনা বসুকে। একই সঙ্গে বারাসত, বনগাঁ, শ্রীরামপুর, আরামবাগ, মেদিনীপুর, বর্ধমান ও কাটোয়া—এই সাত সাংগঠনিক জেলায় নতুন সভাপতি নিয়োগ করা হয়েছে।

বিজেপির অন্দরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দলের যোগাযোগ আরও নিবিড় করতেই সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে তরুণ মুখকে গুরুত্ব দেওয়ার ভাবনা রয়েছে। যুব মোর্চায় তরুণদের উপস্থিতি স্বাভাবিক ভাবেই বেশি থাকবে। পাশাপাশি মহিলা মোর্চার বিভিন্ন কমিটিতেও অপেক্ষাকৃত তরুণীদের সামনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সাংগঠনিক রদবদলেও নতুন মুখকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা গিয়েছে। একাধিক মন্ত্রীকে তাঁদের প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে সাংগঠনিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব আনা হয়েছে।

যুব মোর্চার নতুন সভাপতি অমিত সামন্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর সংগঠনকে বুথস্তর পর্যন্ত শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর লক্ষ্য, প্রতিটি বুথে ১০০ জন করে ‘রাষ্ট্রবাদী যুব কার্যকর্তা’ তৈরি করা।

অমিতের বক্তব্য অনুযায়ী, এই কার্যকর্তারা মানুষের জন্য কাজ করবেন এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে যোগ্য মানুষের কাছে পৌঁছয়, সেই কাজেও তাঁদের যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তরুণ কর্মীদের প্রশিক্ষণের উপরও জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন যুব মোর্চার সভাপতি। তাঁর পরিকল্পনায় প্রশিক্ষণ, বই পড়ানো এবং বিভিন্ন ক্লাসের মাধ্যমে দলের নির্ধারিত ‘রাষ্ট্রবাদী’ আদর্শ সম্পর্কে কর্মীদের ধারণা তৈরি করার বিষয়টি রয়েছে।

শুধু সাংগঠনিক কাজ নয়, যুবসমাজের কর্মসংস্থানের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অমিত সামন্ত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যে শিল্পায়ন ও নিয়োগের যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তার সুফল যাতে যুবসমাজের কাছে পৌঁছয়, সেদিকেও যুব মোর্চা কাজ করবে।

তাঁর দাবি, যুবকদের হাতে কাজ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে বাংলার পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। তবে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত এই বক্তব্য রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া পরিকল্পনা ও অবস্থান হিসেবেই দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।

সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ প্রজন্মকে ঘিরে বিভিন্ন আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচি সামনে এসেছে। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ইস্যুতে তরুণদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলিতেও তরুণদের উপস্থিতি রাজনৈতিক দলগুলির নজর কেড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বঙ্গ বিজেপিও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সাংগঠনিক যোগাযোগ বাড়াতে চাইছে বলে দলীয় সূত্রের বক্তব্য। ফলে আগামী দিনে রাজ্য বিজেপির বিভিন্ন কমিটিতে তরুণ মুখের উপস্থিতি কতটা বাড়ে, সেটিই এখন নজরে থাকবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন