কেরলের রাজধানী তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগমে বিজেপির ক্ষমতা দখলের কয়েক মাসের মধ্যেই তৈরি হয়েছিল বড় রাজনৈতিক অস্বস্তি। মেয়র পদ না পাওয়ার ক্ষোভে বিজেপির কাউন্সিলর এবং রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি আর এস শ্রীলেখা ইস্তফার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন। তাঁর পদত্যাগ কার্যকর হলে ১০১ সদস্যের পুরনিগমে বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হতে পারত। তবে শেষ পর্যন্ত বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পর ইস্তফা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শ্রীলেখা।
ঘটনার সূত্রপাত মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। ২০২৫ সালের স্থানীয় নির্বাচনে তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগমে ঐতিহাসিক জয় পায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। ১০১ আসনের পুরনিগমে বিজেপি ৫০টি আসন পায়। এলডিএফ পায় ২৯টি এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ পায় ১৯টি আসন। এক নির্দল কাউন্সিলরের সমর্থন নিয়ে পুরনিগমের ক্ষমতা দখল করে বিজেপি।
এই জয়ের পর মেয়র পদ নিয়ে বিজেপির অন্দরেই জটিলতা তৈরি হয়। প্রাক্তন ডিজিপি শ্রীলেখা প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন, তাঁকে মেয়র করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রত্যাশাতেই প্রথমে নির্বাচনে লড়তে রাজি হয়েছিলেন বলে দাবি করেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভি ভি রাজেশকে মেয়র করা হয়। দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও বিষয়টি নিয়ে তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছিল।
এরপরই শনিবার শ্রীলেখা কাউন্সিলর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান। তিনি সাস্থামঙ্গলম ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তাঁর দাবি ছিল ব্যক্তিগত কারণেই তিনি পদত্যাগ করছেন। মেয়র ভি ভি রাজেশও তাঁর কাছ থেকে ইস্তফাপত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে সেই চিঠি কর্পোরেশনের সচিবের কাছে জমা না পড়ায় পদত্যাগটি তখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কার্যকর হয়নি।
শ্রীলেখার এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিক ভাবেই বিজেপির অস্বস্তি বাড়ে। কারণ ১০১ সদস্যের পুরনিগমে বিজেপির সংখ্যা এমনিতেই খুব শক্তিশালী নয়। শ্রীলেখা পদত্যাগ করলে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্ক আরও কঠিন হয়ে উঠত। বিশেষ করে দলের আর এক কাউন্সিলর আর সুগাথান বর্তমানে কেরলের KAAPA আইনে গ্রেফতার হয়ে জেলে রয়েছেন। ফলে পুরনিগম চালানোর ক্ষেত্রে বিজেপির সংখ্যার অঙ্ক নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতৃত্ব দ্রুত শ্রীলেখার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা শুরু হয় যাতে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। শেষ পর্যন্ত সেই আলোচনাতেই বরফ গলে। ৪ অক্টোবরের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, শ্রীলেখা আর কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন না। ফলে আপাতত তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগমে বিজেপির প্রশাসনের উপর সরাসরি কোনও সংখ্যাগত ধাক্কা পড়ছে না।
শ্রীলেখার সঙ্গে মেয়র পদ নিয়ে বিজেপির অস্বস্তি অবশ্য নতুন নয়। নির্বাচনের পর তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁকে দলের পুরনিগমের মুখ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল এবং মেয়র পদ নিয়ে আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ভি ভি রাজেশকে মেয়র করা হলে তিনি হতাশ হন। যদিও পরে প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন, দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন এবং ভোটারদের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে কাউন্সিলর হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন।
কেরলের প্রথম মহিলা আইপিএস অফিসার হিসেবে পরিচিত শ্রীলেখা ২০২০ সালে ডিজিপি পদ থেকে অবসর নেন। ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর রাজ্য রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরে তাঁকে বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতির দায়িত্বও দেওয়া হয়।
ফলে আপাতত তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগমে বিজেপির ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বরং মেয়র পদ নিয়ে দলের অন্দরের ক্ষোভ কীভাবে সামলানো হয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। শ্রীলেখার ইস্তফা ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট আপাতত মিটলেও, তাঁকে মেয়র না করার পুরনো ক্ষোভ বিজেপির অন্দরে যে পুরোপুরি মুছে গিয়েছে, তা বলার সময় এখনও আসেনি।



