দেড় হাজার মিটার দীর্ঘ রানওয়ে রয়েছে এবং সেখানে ATR-72-এর মতো বিমান ওঠানামার সম্ভাবনার কথা আগে থেকেই উঠে এসেছে। বিমানবন্দর চত্বরে টার্মিনাল ভবনও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে বিমানবন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্যের তরফে অর্থ খরচ করা হলেও নিয়মিত বাণিজ্যিক পরিষেবা চালু হয়নি। এবার কেন্দ্র-রাজ্যের MoU-র ফলে প্রকল্পটি নতুন গতি পেতে পারে।
পুরুলিয়া শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে ছররায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিমানঘাঁটি তৈরি হয়েছিল। সেখানে দুটি রানওয়ে ছিল। এর মধ্যে বড় রানওয়েটির দৈর্ঘ্য ১,৮০০ মিটারেরও বেশি বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ATR-এর মতো বিমান ওঠানামার সম্ভাবনা রয়েছে।
ছররাকে পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দরে পরিণত করার পরিকল্পনা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ২০২৩ সালে রাজ্যের অনুরোধে এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (AAI) ছররায় বিমানবন্দর তৈরির বিষয়ে প্রি-ফিজিবিলিটি সমীক্ষা করেছিল এবং রিপোর্ট রাজ্যকে জমা দিয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে পুরুলিয়ায় প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ছররায় বিমান নামানোর বিষয়ে জোর দেন। সেপ্টেম্বরেই এই প্রকল্পের জন্য UDAN-এর আওতায় চুক্তির কথা সামনে আসে।
চার প্রকল্পের মধ্যে হাসিমারা ও কলাইকুন্ডা মূলত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও আঞ্চলিক যোগাযোগের কেন্দ্র। হাসিমারায় সিভিল এনক্লেভের মাধ্যমে বিমান পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ডুয়ার্স ও উত্তরবঙ্গের পর্যটন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডাকে ঘিরে বিমান পরিষেবা চালুর উদ্যোগ পশ্চিম মেদিনীপুরের শিল্পাঞ্চল ও পর্যটন ক্ষেত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। চারটি প্রকল্পই UDAN-এর আওতায় আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বিমানবন্দরগুলির জন্য প্রয়োজনীয় জমি রাজ্য সরকারের তরফে দেওয়ার কথা। পাশাপাশি জল, বিদ্যুৎ এবং বিমানবন্দর পর্যন্ত রাস্তার মতো প্রাথমিক পরিকাঠামো তৈরিতেও রাজ্যের ভূমিকা থাকবে। বিমানবন্দর তৈরির মূল পরিকাঠামোর মধ্যে রানওয়ে, ট্যাক্সি বে, পার্কিং বে, যাত্রী টার্মিনাল এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের মতো ব্যবস্থা থাকবে।
এই MoU-র পর প্রকল্পগুলির পরবর্তী ধাপ আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা। তবে চুক্তি স্বাক্ষর মানেই অবিলম্বে চারটি বিমানবন্দর থেকে নিয়মিত যাত্রীবাহী উড়ান শুরু হয়ে যাচ্ছে—এমনটা নয়। জমি, পরিকাঠামো, অনুমোদন এবং উড়ান সংক্রান্ত পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই পরিষেবা চালুর পথ তৈরি হবে।
ফলে আজকের MoU-কে বাংলার আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ছররা ও বালুরঘাটের মতো দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত প্রকল্পের পাশাপাশি হাসিমারা ও কলাইকুন্ডাও বাস্তব রূপ পেলে কলকাতাকেন্দ্রিক বিমান যোগাযোগের বাইরে রাজ্যের একাধিক প্রান্ত সরাসরি আকাশপথের নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারে।



